নিজস্ব প্রতিবেদন: বাল্যবিবাহ রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নাবালিকাদের বিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাল্যবিবাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধান আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করার কথাও জানানো হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে এমন এলাকায় আরও সক্রিয় নজরদারি চালানো হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাবালিকাদের বয়স, বিয়ের সম্ভাবনা এবং পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার মতো পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সি নাবালিকাদের বিয়ে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। নাবালিকা স্ত্রী সন্তান প্রসব করলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাতেও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নাবালিকাকে বিয়ে করা স্বামীদের নোটিস পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
বাল্যবিবাহে শুধু বর-কনে বা পরিবারের সদস্যদের দায় নয়, বিয়ে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। ফলে পুরোহিত, কাজি-সহ বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আইনি পদক্ষেপের আওতা বাড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি নির্দেশিকা চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি সুবিধা নিয়েও কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহের ঘটনায় অভিযুক্তদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক বা সামাজিক সুবিধার অপব্যবহার করে নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় লাগাম টানাই সরকারের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে অবশ্য একাধিক প্রশ্নও উঠছে। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার মোকাবিলায় কড়া আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা এবং পরিবারগুলির আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানও জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
তবে সরকারের বার্তা স্পষ্ট—নাবালিকার বিয়ে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন ভাঙলে পরিবার থেকে শুরু করে বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পথেই এগোতে চাইছে রাজ্য।