নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বহুতল বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের মধ্যেই সামনে এল চুক্তিপত্র সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ওই বাড়িতে শয্যা ভাড়া নিতে গেলে আবাসিকদের এমন একটি চুক্তিপত্রে সই করতে হত, যেখানে কোনও দুর্ঘটনায় তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির দায় মালিকপক্ষের নয় বলে উল্লেখ করা ছিল।
জানা গিয়েছে, বাড়িটির ঘর বা শয্যা ভাড়ার সময় আবাসিকদের কাছ থেকে লিখিত চুক্তি নেওয়া হত। সেই নথিতে বাড়িতে বসবাসের বিভিন্ন শর্তের পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মালিকপক্ষের দায় সংক্রান্ত বিষয়ও উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
বাড়ির একটি অংশ ভেঙে পড়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই ওই চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনও বাড়ি বসবাসের উপযোগী না হলে কিংবা কাঠামোগত ত্রুটি থাকলে শুধুমাত্র চুক্তিপত্রে দায় অস্বীকার করলেই মালিকপক্ষ আইনি দায় থেকে মুক্ত হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পর উদ্ধারকাজ, বাড়িটির নির্মাণগত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের নজরে এসেছে বাড়িটির পরিকাঠামো এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও চুক্তিতে দায় অস্বীকারের ধারা থাকলেও তা সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে কার্যকর হয়ে যায় না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, মালিকপক্ষের দায়িত্ব, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই দায় নির্ধারণ করা সম্ভব।
বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তারই মধ্যে আবাসিকদের সঙ্গে করা কথিত চুক্তিপত্রের বিষয়টি সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য শেষ পর্যন্ত কার দায়, তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।