কলকাতা: দুর্গাপুজো ঘিরে আমিষ খাবার খাওয়ার প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের আলোচনায় বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামে পরিচিত। দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষভোজন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে যেমন অনেকে সরব হয়েছেন, তেমনই বিরোধিতাও করেছেন অনেকে।
বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের সারমর্ম, ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে ভক্তি ও সংযমের সম্পর্ক রয়েছে। দুর্গাপুজোর মতো পবিত্র সময়ে আমিষভোজন নিয়ে তিনি আপত্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্যে আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
তবে দুর্গাপুজোয় আমিষভোজন নিয়ে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। বাংলার বহু পরিবারে দুর্গাপুজোর বিভিন্ন দিনে নিরামিষ ও আমিষ—দুই ধরনের খাবারেরই প্রচলন রয়েছে। ফলে অন্য কোনও অঞ্চলের ধর্মীয় রীতিকে বাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন অনেকে।
কেন ‘বাগেশ্বর বাবা’ এত জনপ্রিয়?
মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার গড়া গ্রামে অবস্থিত বাগেশ্বর ধামকে কেন্দ্র করে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় বক্তব্য, হিন্দুত্ব-ভিত্তিক বিভিন্ন মন্তব্য এবং ‘দরবার’-এর মাধ্যমে তিনি বিপুল সংখ্যক অনুগামী তৈরি করেছেন।
তাঁর ভক্তদের একাংশের বিশ্বাস, তিনি মানুষের মনের কথা বা ব্যক্তিগত সমস্যার বিষয়ে বিশেষভাবে জানতে পারেন। ‘দিব্য দরবার’-এ ভক্তদের ডেকে তাঁদের সমস্যা সম্পর্কে বলার ঘটনাগুলি তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
বাগেশ্বর বাবার এই ক্ষমতাকে তাঁর অনুগামীরা অলৌকিক বা ‘দিব্য শক্তি’ হিসেবে দেখেন। তবে এসব দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশয়বাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মহলের তরফে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার দাবিগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ফলে ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত আস্থা এবং অলৌকিক শক্তির দাবি—এই তিনের সংযোগেই তৈরি হয়েছে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক। এবার দুর্গাপুজোয় আমিষভোজন নিয়ে তাঁর মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।