বিক্ষোভের হ্যাটট্রিক! জ্ঞানেশ বিদায়ের দাবিতে টানা তিনদিন দিল্লির রাজপথে রাহুলরা, এবার গন্তব্য রাজঘাট


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে টানা তৃতীয় দিন দিল্লির রাজপথে নামল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল, বুধবার যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবারও কর্মসূচি অব্যাহত রাখল ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। এ দিন মধ্যাহ্নভোজের পর ফের পথে নামেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা। তৃতীয় দিনের কর্মসূচিতে তাঁদের গন্তব্য রাজঘাট। সেখানে যাওয়ার পথেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইন্ডিয়া জোট। বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার দায় কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের নিতে হবে। সেই দাবিতেই ধারাবাহিক আন্দোলনের পথে হাঁটছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার থেকে শুরু আন্দোলন
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল মঙ্গলবার। সে দিন সংসদের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদরা। রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ সেই মিছিলে অংশ নেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের দফতরের কাছে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। মিছিলের পথে ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশ। ফলে কমিশনের দফতর পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি বিরোধী সাংসদরা। সেখানেই অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে সাংসদদের বাগ্‌বিতণ্ডাও তৈরি হয়।
এর পর বুধবার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি ছিল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ওই দিন বিরোধী সাংসদদের মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান। সেই বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের পরই আরও আক্রমণাত্মক সুরে দেখা যায় রাহুল গান্ধীকে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি থেকে বিরোধীরা পিছিয়ে আসবেন না। এর পর বিরোধী সাংসদরা বাসে করে যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হন। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।
তৃতীয় দিনে গন্তব্য রাজঘাট
মঙ্গলবার এবং বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইন্ডিয়া জোট। এ দিনও মধ্যাহ্নভোজের পর একসঙ্গে পথে নামেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের কর্মসূচির গন্তব্য ছিল রাজঘাট। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে গিয়ে নিজেদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
তবে রাজঘাটের দিকে এগোনোর সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সাংসদ এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে। অন্য দিকে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতেও রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন পোস্টার ও স্লোগান। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তাঁরা।
‘জ্ঞানেশকে সরিয়েই ছাড়ব’, বার্তা রাহুলের
বুধবারের কর্মসূচির পর রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা হয়েছিল। বিরোধী সাংসদদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁরা সরিয়েই ছাড়বেন। সেই বক্তব্যের পরেই এ দিন ফের রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে গেল কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি।
বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকা প্রয়োজন। ভোটার তালিকা এবং ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাব কমিশনকেই দিতে হবে। সেই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
অন্য দিকে, বিরোধীদের এই ধারাবাহিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা আক্রমণ করছে শাসক শিবির। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর, বুধবার যন্তরমন্তর এবং বৃহস্পতিবার রাজঘাট—টানা তিন দিন দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের এই আন্দোলন যে আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

Post a Comment

Previous Post Next Post