‘আবাসের টাকা হিন্দু-মুসলিম বেছে দিইনি’, আরও বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকা বিবাহ রোখার আবেদন শুভেন্দুর


প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা বণ্টনে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ করা হয়নি বলে দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। যোগ্য উপভোক্তারা সকলেই আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন বলে দাবি করে বৃহস্পতিবার মালদহের ভূতনিতে তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। একই সঙ্গে বেআইনি ভাবে যোজনার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় নাবালিকা বিবাহ রুখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু।
বৃহস্পতিবার মালদহের ভূতনিতে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানেই মোট ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। নির্বাচনের সময় আবাসের টাকা নিয়ে তৃণমূলের তরফে যে প্রচার করা হয়েছিল, তা ‘মিথ্যা’ বলেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে না বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে বেছে টাকা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, পূর্বতন সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে যাচাই বা ভেরিফিকেশনের পর ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা নিয়ম মেনে ঘর তৈরি করেছেন এবং প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর কথায়, “আপনাদের বলা হয়েছিল না, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আবাসের টাকা মিলবে না। আমরা হিন্দু-মুসলিম বেছে দিইনি। যাঁরা ঘর করেছেন, তাঁদের সকলকে টাকা দিয়েছি।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবাস যোজনার টাকা বণ্টন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কেউ যদি বেআইনি উপায়ে প্রকল্পের তালিকায় নাম তুলে সুবিধা নিয়ে থাকেন, তা হলে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুধু আবাস যোজনাই নয়, এ দিনের কর্মসূচি থেকে আরও বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু। যোগ্য পরিবারগুলি যাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পায়, সেই বিষয়টির উপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রয়োজন থাকা পরিবারগুলির জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।
নাবালিকা বিবাহ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইলেন শুভেন্দু
এ দিনের বক্তব্যে নাবালিকা বিবাহের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নাবালিকা বিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও নাবালিকা বিবাহের আয়োজন হলে প্রশাসনকে দ্রুত জানানোর আবেদন করেন তিনি।
নাবালিকা বিবাহের ফলে মেয়েদের শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও বার্তা দেন শুভেন্দু। তাই কোনও পরিবার বা এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা গোপন না রেখে প্রশাসনের নজরে আনার আবেদন জানান তিনি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলির বিরুদ্ধেও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ভূতনিতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও ঘোষণা
এ দিন মালদহের ভূতনিতে বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়। মোট ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আবাস যোজনার টাকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এবং বন্যা পরিস্থিতি—দুই বিষয়েই এ দিন একাধিক বার্তায় সরব হন শুভেন্দু। এক দিকে যোগ্য উপভোক্তাদের সরকারি আবাসন প্রকল্পের টাকা দেওয়ার দাবি করেন, অন্য দিকে প্রকল্পে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। পাশাপাশি নাবালিকা বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রুখতে সাধারণ মানুষকে আরও সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানান তিনি।
আবাস যোজনার টাকা বণ্টন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই শাসক-বিরোধী তরজা চলছে। সেই আবহেই শুভেন্দুর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ধর্মের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে তাঁর এই দাবি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post