নেপালে পালিয়েছেন লিভ-ইন সঙ্গী? লখনউয়ে ক্যাফে মালিকের রহস্যমৃত্যুতে দুষ্কৃতী-যোগের সন্দেহ, তল্লাশিতে পুলিশ
লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গত ৯ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের হজরতগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় শিবার। ঘটনার পর থেকেই তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী তথা মডেল শ্রদ্ধা দুবের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধা কি নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, দেশ ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন তিনি। যদিও শ্রদ্ধার অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তাঁর খোঁজ পেতে একাধিক পুলিশি দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
শিবার মৃত্যুর ঘটনা ঠিক কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর পিছনে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও দুষ্কৃতীচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কিংবা সম্ভাব্য অপরাধমূলক যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ শ্রদ্ধা
পুলিশের নজরে এখন মূলত শ্রদ্ধা দুবে। শিবার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর সন্ধান না মেলায় তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বেড়েছে। পুলিশের অনুমান, শ্রদ্ধা নেপালে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে শ্রদ্ধা সত্যিই নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর নিখোঁজ থাকার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। পুলিশ তাঁর গতিবিধি, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।
কে এই শ্রদ্ধা দুবে?
পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে শ্রদ্ধার ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত পরিচয় সংক্রান্ত নানা তথ্য। রায়বরেলীর বাসিন্দা শ্রদ্ধা বিবাহবিচ্ছিন্না। তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২২ সালে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তার পর থেকে তিনি লখনউয়ের হজরতগঞ্জ এলাকার একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তের প্রেক্ষিতে আলোচনায় এসেছে।
শ্রদ্ধার জীবনযাত্রা এবং পেশাগত পরিচয়ও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তাঁর একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি, ‘বেস্ট ফেস অফ লখনউ’ সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। শুধু মডেলিংয়ের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন না, একটি মডেলিং শো আয়োজনের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ফলে স্থানীয় স্তরে ফ্যাশন ও মডেলিংয়ের জগতেও তাঁর পরিচিতি ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
হায়দরাবাদে চাকরি, পরে ফ্যাশন ব্লগিং
শ্রদ্ধার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবন সম্পর্কেও কিছু তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি তিনি পিজিডিসিএ (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস) করেন। পরবর্তী সময়ে ফ্যাশন ব্লগিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। মডেলিং, ফ্যাশন ব্লগিং এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের মতো একাধিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শ্রদ্ধা।
তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের সঙ্গে শিবার মৃত্যুর কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা মূলত ৯ অক্টোবরের ঘটনার পরিস্থিতি, শিবার মৃত্যুর কারণ এবং শ্রদ্ধার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মৃত্যুর নেপথ্যে কি অন্য কোনও রহস্য?
শিবার মৃত্যুর ঘটনায় দুষ্কৃতী-যোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। তবে এই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ঠিক কী কারণে শিবার মৃত্যু হল, ঘটনার সময় আবাসনে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না—এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
শ্রদ্ধার সন্ধান পাওয়া গেলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কী কী তথ্য পেয়েছে, তা এখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, লখনউয়ের ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যু এবং তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা দুবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রদ্ধার সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তিনি কোথায় রয়েছেন, শিবার মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং এই ঘটনার পিছনে সত্যিই কোনও দুষ্কৃতীচক্রের ভূমিকা রয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে।