নজর টোল-চতুষ্পাঠী, সরকারের নির্দেশে 18 বছর পর পরীক্ষা নেবে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়


একসময় বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ছিল টোল ও চতুষ্পাঠী। ন্যায়, ব্যাকরণ, পুরাণ, স্মৃতিশাস্ত্র ৷ শাস্ত্রপাঠের এই কেন্দ্রগুলি শুধু ব্রাহ্মণদের নয়, অব্রাহ্মণ ও নারীদেরও শিক্ষার সুযোগ দিত। কিন্তু আধুনিক শিক্ষার বিস্তারে ক্রমে হারিয়ে যায় তাঁদের গুরুত্ব। তবুও, সময়ের ঢেউ পেরিয়ে এখনও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টিকে আছে টোল সংস্কৃতি, ছাত্রসংখ্যা কমলেও টিকে আছে প্রাচীন শিক্ষার প্রদীপ। এবার সেই টোলগুলিকেই নতুনভাবে স্বীকৃতি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার।

সরকারের নির্দেশে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এবার টোলের পড়ুয়াদের নেওয়া হবে পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে হবে এই পরীক্ষা, এবং সফল পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে শংসাপত্র। জানা গিয়েছে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। প্রায় 18 বছর পর এই পরীক্ষা হতে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মণিশঙ্কর মণ্ডল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া চতুষ্পাঠী ও টোলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আধুনিকীকরণের পাশাপাশি এবার পরীক্ষা প্রক্রিয়াও চালু হচ্ছে।

2007 সাল পর্যন্ত রাজ্যের টোলগুলিতে নিয়মিত পরীক্ষা হত। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাব, আর্থিক সংকট ও অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রমে স্থবির হয়ে পড়ে সনাতন শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানগুলি। এখন রাজ্যে মোট 328টি সক্রিয় টোলের মধ্যে 4টি সরকারি ও 322টি সরকার-পোষিত (ডিএ গেটিং) ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, গত 18 বছরে প্রায় 4 হাজার 500 শিক্ষার্থী আদ্য, মধ্য ও উপাধি পর্যায়ে পাঠ সম্পন্ন করলেও পরীক্ষা দিতে পারেননি। তাঁদের স্বীকৃত ডিগ্রিও নেই। এবার সেই শিক্ষার্থীদেরই মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে এই উদ্যোগের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজছেন একাংশ শিক্ষক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশিস মণ্ডল বলেন, "প্রাচীন শিক্ষাকে বাঁচানোর উদ্যোগ প্রশংসনীয়, কিন্তু সেটিকে যদি ভোটের আগে ধর্মীয় আবহে ব্যবহার করা হয়, তা অনভিপ্রেত।"

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত ফাজিল পরীক্ষার তৃতীয় সেমিস্টারের ফলপ্রকাশ হবে 12 নভেম্বর। বেলা 12টায় ফলপ্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পর্ষদ। ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করবে পর্ষদ। ওয়েবসাইটে মার্কশিটও ডাউনলোড করা যাবে। ফলাফল প্রকাশ করবেন মাদ্রাসা বোর্ডের সভাপতি। ফাজিল বিষয়ের সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হয়েছিল 11 অক্টোবর। এই বিষয়ে পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় 7 হাজার। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে 29 জানুয়ারি চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছে পর্ষদ।

এবারই প্রথম মাদ্রাসা বোর্ড সেমিস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশ পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। ওএমআর শিট-এ পরীক্ষা দিয়েছেন সকল পরীক্ষার্থীরা। এইবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও হয়েছে সেমিস্টার পদ্ধতিতে।

উচ্চমাধ্যমিকে তৃতীয় সেমেস্টারে পাশের হার 93.72 শতাংশ ৷ গতবছর পাশের হার ছিল, 90.79 শতাংশ ৷ বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার 98.80 শতাংশ, কমার্সে পাশের হার 94.19 শতাংশ, কলা বিভাগে পাশের হার 92.54 শতাংশ।
এবার মেধা তালিকায় রয়েছেন 69 জন ৷

98.97 শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন দু'জন, প্রীতম বল্লভ ও আদিত্য নারায়ণ জানা ৷ তাঁরা দু'জনেই পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের ছাত্র ৷
দ্বিতীয় হয়েছেন 10 জন ও তৃতীয় হয়েছেন একজন ৷ মেধাতালিকায় মেয়ে তিনজন ৷
98.42 শতাংশ পেয়ে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন দীপান্বিতা পাল, তিনি মেধাতালিকায় রয়েছেন চতুর্থ স্থানে ৷
মেধাতালিকায় একজন কর্মাসের ছাড়া বাকি সবাই বিজ্ঞান বিভাগের ৷ কলা বিভাগের কেউ মেধাতালিকায় নেই ৷
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের 24 জন ও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের 31 জন রয়েছেন মেধাতালিকায় ৷
উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পর্বে 60 শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে 41.16 শতাংশ পরীক্ষার্থী, 75 শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে 10.4 শতাংশ পরীক্ষার্থী ৷

Post a Comment

Previous Post Next Post