১৪৪ থেকে ২০৯টি কি আইন মেনে? কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না হাই কোর্ট


# ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯টি ওয়ার্ড! কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন নিয়ে আপাতত হস্তক্ষেপ নয় হাই কোর্টের

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে আইনি বিতর্কে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। এই পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে আইন মেনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারী। তবে বৃহস্পতিবার এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেনি বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। পরিবর্তে রাজ্য সরকার এবং মামলাকারী—উভয় পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে এই মামলা ঘিরে ইতিমধ্যেই আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্তের পিছনে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মেনে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, মূলত সেই প্রশ্নই উঠেছে মামলায়। মামলাকারীর অভিযোগ, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।

## ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

কলকাতা পুরসভায় আগে ওয়ার্ডের সংখ্যা ছিল ১৪৪। পুনর্বিন্যাসের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯। এই পরিবর্তন শুধু ওয়ার্ডের সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুনর্বিন্যাসের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীর দাবি, নির্ধারিত আইন ও পদ্ধতি মেনেই এই ধরনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। সেই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্যই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন আদালতের নজর। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে হাই কোর্ট এই পর্যায়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। মামলার দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি সামনে আসার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

## আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ নয়

বৃহস্পতিবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির পর আদালত আপাতত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেনি। অর্থাৎ, এই পর্যায়ে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের তরফে কোনও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

তবে মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী শুনানির আগে দুই পক্ষের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজ্য সরকারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া এবং মামলায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

## রাজ্যের জবাবের পর পাল্টা হলফনামা মামলাকারীর

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের হলফনামা জমা দেওয়ার পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবেন মামলাকারী। অর্থাৎ, প্রথমে রাজ্যকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। তার পর সেই বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন মামলাকারী।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের যুক্তি ও বক্তব্য আদালতের সামনে আসবে। তার পর মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

## ছ’সপ্তাহ পর ফের শুনানি

হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হতে পারে। সেই শুনানিতে রাজ্য সরকারের হলফনামা এবং মামলাকারীর পাল্টা হলফনামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের আইনি বৈধতা নিয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আপাতত জারি থাকল। বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিলেও, হলফনামা জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির পথ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে রাজ্য সরকারের জবাব এবং তার ভিত্তিতে মামলাকারীর পাল্টা বক্তব্যের দিকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post