নয়াদিল্লি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কাল যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির। এই মর্মে দিল্লি পুলিশকে তাদের তরফে আনুষ্ঠানিক জানানো হয়েছে বলে দিনকয়েক আগে জানিয়েছেন প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস । গত বুধবারই তা জানানো হয়েছে। যদিও কালকের এই কর্মসূচিতে কোনও অনমুতি দেওয়া হয়নি বলে আজ জানিয়ে দেওয়া হল দিল্লি পুলিশের তরফে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, নয়াদিল্লি জেলায় বিধিনিষেধমূলক আদেশ জারি করা হয়েছে এবং শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখার জন্য ডিএমআরসি (DMRC)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই বিষয়ে খুব অল্প সময়ের নোটিসে জানানো হয়েছে। অথচ নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের তারিখের অন্তত ১০ দিন আগে এ ব্যাপারে অবহিত করা উচিত ছিল।
এর আগে CJP-র তরফে জানানো হয়েছে, ভোট ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন দেশের তরুণরা। প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছিলেন যে, তিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এবিষয়ে একটি চিঠি জমা দিয়ে এসেছেন। তাতে পুলিশকে জানানো হয়েছে যে, ১০ অক্টোবর সারা দেশ থেকে CJP ও যুবসমাজ যন্তর মন্তরে সমবেত হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ আরও বলেছেন, "জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও আমরা মাথা নত করব না। আমরা নির্বাচন কমিশনে যথাযথ সংস্কার চাই। তা না হলে নির্বাচন কমিশন কখনোই নিরপেক্ষ হবে না... আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কুমার (জ্ঞানেশ কুমার) পদত্যাগ করেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আমরা কাঠামোগত সংস্কার চাই, পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং সেই সময় নেওয়া বেআইনি সিদ্ধান্তগুলির তদন্ত দাবি করছি। সরকারের নিশ্চিত করা উচিত যেন কুমারের মতো ব্যক্তিরা এমন পদে আসীন না হন। তা না হলে আমরা পিছু হটব না। আমি চাই, সবাই এগিয়ে আসুন। প্রস্তুতি নিয়ে আসুন। এটি একটি দীর্ঘ লড়াই হতে চলেছে।"
এদিকে এই আবহে ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামউদ্দিন রেল স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য নির্ধারিত সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। বিভিন্ন সংবাদ সূত্রের এমনই খবর। স্টেশন দু'টির আশপাশে তীব্র যানজটের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে, ট্রেন বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।