### দিল্লিতে পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে বিপর্যয়, বাড়ির মালিক মহম্মদ আনোয়ার গ্রেফতার, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা!
দিল্লির সীমাপুরীতে পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন। দুর্ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিক মহম্মদ আনোয়ার পলাতক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে গত শনিবার, ১০ অক্টোবর, তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। কী কারণে বাড়িটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার, ৭ অক্টোবর, দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় আচমকাই ভেঙে পড়ে একটি পাঁচতলা বাড়ি। বহুতল বাড়িটি ভেঙে পড়তেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায় বাড়িটির আশপাশের এলাকা। বাড়ির ভিতরে থাকা আবাসিকদের পাশাপাশি কয়েক জন প্রতিবেশীও বিপদের মুখে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়েই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন উদ্ধারকারীরা।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাড়ির মালিক বছর পঞ্চাশের মহম্মদ আনোয়ার অন্যত্র ছিলেন। কিন্তু এই ভয়াবহ ঘটনায় তাঁর নিজের পরিবারও বিপর্যস্ত হয়েছে। বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় আনোয়ারের এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী, পুত্র এবং মাত্র তিন বছরের নাতি আহত হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের এমন পরিণতিতে গোটা ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটি ভেঙে পড়ার পর অন্তত ১১ জন আবাসিক ও প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে আট জন আহত হন। উদ্ধারকাজের মাধ্যমে বিপর্যস্ত মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। তবে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে ছিলেন কি না এবং বাড়ি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বাড়ির মালিক
এই ঘটনায় বাড়ির মালিক মহম্মদ আনোয়ারের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ। অবশেষে গত শনিবার, ১০ অক্টোবর, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় গাফিলতি বা অন্য কোনও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করা যায় না।
পুলিশ ইতিমধ্যেই আনোয়ারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ এবং ১১০ ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই ধারাগুলির আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাড়িটির নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করা হতে পারে।
বাড়ি ভাঙার কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
এদিকে, কী কারণে পাঁচতলা বাড়িটি ভেঙে পড়ল, তা জানতে প্রশাসনিক স্তরেও তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলাশাসকের তরফে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়িটির নির্মাণের সময় কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা কেমন ছিল এবং সেটি বসবাসের উপযুক্ত ছিল কি না, সে সমস্ত বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত বাড়ি ভেঙে পড়ার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
দিল্লির এই দুর্ঘটনা ফের বহুতল ভবনের নিরাপত্তা, নির্মাণের মান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুরনো বা ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িগুলির অবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা কতটা জরুরি, সেই বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সীমাপুরীর পাঁচতলা বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় চার জনের মৃত্যু, একাধিক মানুষের আহত হওয়া এবং বাড়ির মালিকের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তদন্ত জোরদার হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এখন তদন্তকারীদের নজর দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং এই বিপর্যয়ের পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করার দিকে।