ফরতাবাদের বি-৬ প্রান্তিকা অঞ্চলের বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ রায়। তাঁর বাড়িতেই এ দিন চুরি হয়েছে। ঘটনার ঠিক দু'দিন আগে ওই বাড়ির মেয়ে সুকন্যা রায়ের জন্মদিন ছিল। সেই জন্য ফ্রিজে রাখা ছিল কেক। অভিযোগ, ঘরে ঢুকে প্রথমে ফ্রিজ থেকে সেই কেক বের করে আয়েশ করে খায় চোরের দল। এর পর ঘরের ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরা নজরে আসতেই মুখে কালো কাপড় বেঁধে নেয় দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, শুধু আলমারি বা আসবাবপত্র নয়, চোরেদের নজর পড়ে ঠাকুরঘরে থাকা রাধাকৃষ্ণের মূর্তির উপরেও। মূর্তিটি সোনার কি না, তা পরীক্ষা করতে মূর্তির পোশাক পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়। এর পর সোফার চাদর গায়ে জড়িয়ে তারা একের পর এক ঘরে ঢুকে দেদার তল্লাশি চালায়। বাড়ি থেকে নগদ টাকা, দামি রত্ন, বিদেশি ডলার ও বিদেশি মদ নিয়ে পালায় চোরেরা। ওই বাড়ির সদস্যদের দাবি, চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকারও বেশি। অভিযোগ, চোরের দল পালাবার আগে যাওয়ার আগে পড়াশোনার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও একটি ক্যামেরাও ভাঙচুর করে।
এমনকী, চুরির প্রমাণ লোপাট করতে সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক খোঁজারও চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তবে সেটি তাদের নজরে আসেনি। পরিবারের লোকজনের দাবি, জন্মদিনে সুকন্যা একটি দামি মূল্যবান উপহার পেয়েছিলেন। সেই মূল্যবান বস্তু চুরি করতেই দুষ্কৃতীরা হানা দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
একনজরে
দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়ার ফরতাবাদে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে চুরির অভিযোগ।
রবিবার পৃথ্বীরাজ রায়ের বাড়িতে হানা দেয় তিন দুষ্কৃতী।
অভিযোগ, বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢোকে চোরের দল।
চুরি করতে এসে প্রথমেই ফ্রিজে রাখা জন্মদিনের কেক খেয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা।
বাড়ির ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পেয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে নেয় তারা।
ঠাকুরঘরে থাকা রাধাকৃষ্ণের মূর্তির পোশাক ছিঁড়ে সেটি সোনার কি না, তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করে চোরেরা।