### কাগজের ব্যালটে ভোট, তবুও কয়েক ঘণ্টায় ফল! আমেরিকায় কী ভাবে গণনা হয় কয়েক কোটি মানুষের রায়?
ভারতের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমের মাধ্যমে নয়, বরং মূলত কাগজের ব্যালটের মাধ্যমেই ভোটদান করেন আমেরিকার নাগরিকেরা। অথচ সেই কাগজের ব্যালটে দেওয়া কোটি কোটি ভোটের গণনা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একের পর এক আসনের ফলাফল সামনে আসতে থাকে। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় দেশে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের রায় কী ভাবে এত দ্রুত গণনা করা সম্ভব? কাগজের ব্যালট ব্যবহার করেও কী ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল জানা যায়?
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে নির্বাচনী নির্ধারিত আসনগুলিতে এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনেই ভোটের লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থান এবং আগামী দিনের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই নির্বাচনের ফল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতে সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট গণনার দিন ধার্য থাকে। কিন্তু আমেরিকায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী দফতর থেকে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশিত হতে থাকে। কোনও রাজ্যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় কে এগিয়ে, আবার কোথাও ডাকযোগে আসা ব্যালট বা ভোটের ব্যবধান কম থাকার কারণে গণনা চলতে থাকে পরের দিনও।
তবে মনে রাখতে হবে, দ্রুত প্রাথমিক ফল প্রকাশ মানেই সব ভোটের চূড়ান্ত গণনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রাথমিক ফলাফল, আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা এবং চূড়ান্ত প্রত্যয়ন—এই তিনটি পৃথক পর্যায় রয়েছে।
### কেন কাগজের ব্যালটেই আস্থা আমেরিকার?
আমেরিকার নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ব্যবহারের পিছনে রয়েছে ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং পুনরায় গণনার সুবিধার মতো একাধিক বিষয়। সেখানে ভোটাররা সাধারণত কাগজের ব্যালটে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পাশে নির্দিষ্ট চিহ্ন দেন। কোথাও সরাসরি ব্যালট পেপারে চিহ্ন দেওয়া হয়, আবার কোথাও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ভোটারের পছন্দ অনুযায়ী কাগজের ব্যালট তৈরি করা হয়।
এই ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হল, ভোটের একটি দৃশ্যমান কাগুজে রেকর্ড থেকে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে ভোটের হিসাব নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে সেই ব্যালট ফের পরীক্ষা করা সম্ভব। এমনকি প্রয়োজন হলে হাতে গুনেও ভোটের হিসাব যাচাই করা যায়। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে এই কাগুজে নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
তবে আমেরিকায় সব জায়গায় ভোট দেওয়ার পদ্ধতি এক নয়। রাজ্যভেদে নির্বাচনী নিয়ম এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও হাতে চিহ্ন দেওয়া কাগজের ব্যালট ব্যবহার করা হয়, কোথাও ব্যালট মার্কিং ডিভাইসের মাধ্যমে ভোটারের পছন্দ কাগজে ছাপিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভোট গণনার জন্য ব্যবহার করা হয় আধুনিক অপটিক্যাল স্ক্যানার।
### কাগজের ব্যালট কী ভাবে গোনা হয়?
আমেরিকায় কাগজের ব্যালট ব্যবহার করা হলেও প্রতিটি ভোট হাতে গুনতে হয় না। এখানেই রয়েছে দ্রুত গণনার মূল রহস্য। ভোটাররা ব্যালটে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে চিহ্ন দেওয়ার পর সেই ব্যালট বিশেষ স্ক্যানারের মাধ্যমে গণনা করা হয়।
এই স্ক্যানার ব্যালটের উপর থাকা চিহ্ন শনাক্ত করতে পারে। কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তার হিসাব স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয়। অর্থাৎ কাগজের ব্যালট থাকলেও গণনার জন্য পুরোপুরি মানুষের হাতের উপর নির্ভর করতে হয় না।
কিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্রেই স্ক্যানারের মাধ্যমে ব্যালট গণনা করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফল নির্বাচনী দফতরে পাঠানো হয়। আবার কিছু এলাকায় ব্যালট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে গণনা করা হয়। ডাকযোগে আসা ব্যালটের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকে। সেগুলি যাচাই করে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গণনা করা হয়।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এমআইটির নির্বাচন গবেষণাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার অধিকাংশ এলাকায় কাগজের ব্যালট গণনার জন্য অপটিক্যাল স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়। হাতে ভোট গণনার প্রয়োজন পড়ে তুলনামূলক ভাবে কম।
### ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি
আমেরিকার নির্বাচনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের অন্যতম কারণ হল, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই সমস্ত কাজ শুরু করতে হয় না। রাজ্যভেদে নিয়ম অনুযায়ী অনেক জায়গায় আগাম ভোট এবং ডাকযোগে আসা ব্যালটের প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ আগে থেকেই শুরু করা যায়।
অনেক মার্কিন নাগরিক নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে আগাম ভোট দেন। কেউ আবার ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ফলে নির্বাচনের দিন কয়েক কোটি ভোটার একসঙ্গে ভোট দিতে আসেন না। বিভিন্ন সময়ে জমা পড়া ব্যালটগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রস্তুত রাখা হয়।
ভোটারদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই, ব্যালটের খাম পরীক্ষা এবং গণনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয় অনেক রাজ্যে। তবে কোন রাজ্যে কখন এই কাজ করা যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্বাচনী আইনের উপর।
ফলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিপুল সংখ্যক ব্যালটের হিসাব দ্রুত প্রকাশ করার সুযোগ থাকে। তবে সব রাজ্যে একই নিয়মে এই প্রক্রিয়া চলে না।
### একসঙ্গে নয়, রাজ্যভিত্তিক ভাবে হয় গণনা
আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, গোটা দেশের ভোট গণনার দায়িত্ব কোনও একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে নেই। ভারতের মতো একটি নির্দিষ্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেশজুড়ে একই পদ্ধতিতে ভোট পরিচালনা করা হয় না।
আমেরিকায় নির্বাচনের দায়িত্ব মূলত রাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব নির্বাচনী আইন, গণনার নিয়ম এবং ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকেরা ভোট গণনা করেন এবং সেই তথ্য রাজ্যের নির্বাচনী দফতরে পাঠান।
এর ফলে পূর্ব উপকূলের কোনও রাজ্যে ভোট গণনার কাজ শেষ হয়ে গেলে সেখানে ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে, অথচ পশ্চিমের কোনও রাজ্যে তখনও ভোটগ্রহণ চলতে পারে। কারণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়ও এক নয়।
এই ব্যবস্থার ফলে এক জায়গার ফলাফলের জন্য গোটা দেশের গণনা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটের হিসাব আলাদা ভাবে সামনে আসে।
### ফলাফল প্রকাশে সংবাদমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা
আমেরিকার নির্বাচনে ভোট গণনার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করতে শুরু করে সংবাদমাধ্যমগুলি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদ সংস্থা বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের হিসাব, বাকি থাকা ব্যালট এবং প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
তবে সংবাদমাধ্যমের এই ঘোষণা সরকারি ভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা নয়। এটি মূলত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য বিজয়ী নির্ধারণ। অনেক সময় কোনও প্রার্থী প্রথমে এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী সময়ে নতুন ব্যালট গণনা হওয়ার পর ছবিটা বদলে যেতে পারে।
বিশেষ করে ডাকযোগে আসা ভোটের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়। কোনও রাজ্যে নির্বাচনের দিন দেওয়া ভোট আগে গণনা করা হয়, আবার কোথাও ডাকযোগে আসা ভোটের গণনা আগে শুরু হয়। ফলে প্রথম দিকে যে প্রার্থী এগিয়ে থাকেন, পরে অন্য প্রার্থীও তাঁকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। এই কারণেই প্রাথমিক ফলাফলকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না।
### গণনার পরেও রয়েছে একাধিক যাচাইয়ের ধাপ
আমেরিকায় নির্বাচনের ফলাফল দ্রুত সামনে এলেও সরকারি ভাবে ফল চূড়ান্ত হতে বেশ কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও সময় লাগতে পারে। কারণ ভোট গণনার পরেও রয়েছে একাধিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।
প্রথমে সমস্ত বৈধ ভোটের হিসাব একত্রিত করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ক্যানভাসিং’। এর মাধ্যমে নির্বাচনী আধিকারিকেরা যাচাই করেন, মোট কত জন ভোট দিয়েছেন এবং কতগুলি ব্যালট গণনা হয়েছে। কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হয়। ডাকযোগে আসা ভোট, আগাম ভোট এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া অস্থায়ী ব্যালটও এই পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়।
এর পর অনেক রাজ্যে পোস্ট-ইলেকশন অডিট বা ভোট পরবর্তী নিরীক্ষা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হল, যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট গণনায় কোনও ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ব্যালট হাতে গুনেও দেখা হতে পারে।
সবশেষে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে ফলাফল প্রত্যয়ন করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সার্টিফিকেশন’। অর্থাৎ ভোটের রাতে টেলিভিশনের পর্দায় যে ফলাফল দেখা যায়, সেটিই যে চূড়ান্ত সরকারি ফল, এমন নয়।
### সেনেটের সব আসনে কি একসঙ্গে ভোট হয়?
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে মোট ১০০ জন সদস্য থাকলেও প্রতি দু'বছরে সব আসনে নির্বাচন হয় না। সেনেটরদের কার্যকালের মেয়াদ ছ'বছর এবং নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতি দু'বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।
অন্য দিকে, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সবগুলিতেই প্রতি দু'বছরে নির্বাচন হয়। তাই ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও হাউসের সব আসনে ভোট হলেও সেনেটের ১০০টি আসনে একসঙ্গে ভোট হচ্ছে না। এ বার সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন নির্ধারিত হয়েছে
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিন ৫ নভেম্বর নয়, ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার। ৪ ও ৫ নভেম্বর বিভিন্ন রাজ্যের প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসার প্রেক্ষিতে গণনার এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
### ইভিএম নয়, কাগজের ব্যালটেই কেন ভরসা?
সব মিলিয়ে আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় কাগজের ব্যালটের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই দ্রুত গণনার অন্যতম কারণ। কাগজের ব্যালট ভোটের একটি স্থায়ী নথি তৈরি করে, আর অপটিক্যাল স্ক্যানার সেই ব্যালটের ভোট দ্রুত গণনা করতে সাহায্য করে। ফলে কাগজের ব্যালট ব্যবহার করলেই যে গণনার কাজ দীর্ঘায়িত হবে, এমনটা নয়।
ভারতের ইভিএম ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার এই পদ্ধতির তুলনা করলে দেখা যায়, দু'দেশই ভোট গণনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সাহায্য নেয়, তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন আলাদা। আমেরিকায় কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের রেকর্ড রেখে তার ভিত্তিতে যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা হয়।
তাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসার পিছনে কোনও জাদু নেই। বরং আগাম ভোটের প্রস্তুতি, আধুনিক স্ক্যানার, রাজ্যভিত্তিক গণনা এবং দ্রুত তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থাই এর প্রধান কারণ। তবে দ্রুত ফল জানা গেলেও প্রতিটি বৈধ ভোটের হিসাব যাচাই করে সরকারি ভাবে ফল ঘোষণা করাই মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।