খবর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : জমি দুর্নীতি মামলায় গত ৩১ জানুয়ারি ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকেও। রাঁচিতে ৮.৮৬ একর জমি বেআইনিভাবে দখল করার অভিযোগ রয়েছে হেমন্তের বিরুদ্ধে। লোকসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই তাঁর আর্জি ছিল, ভোটপ্রচার করার জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হোক। কিন্তু সেই আর্জি নাকচ করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে গত ২৮ জুন হেমন্তকে জামিন দেয় ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট।
দীর্ঘ পাঁচ মাস পরে জামিন পেয়েছেন। জেলমুক্তির পরেই ফের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ফিরে পেতে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আবেদনও জানিয়েছেন। কিন্তু সেই হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে এবার নড়েচড়ে বসতে চলেছে ইডি। সূত্রের খবর, হেমন্তের জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
চলতি বছরের শেষেই ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে হেমন্ত সোরেনের মুক্তি ঝাড়খণ্ডের শাসকদল জেএমএমের কাছে যে বড় স্বস্তির তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি আবারও ফিরে পেতে সচেষ্ট হয়েছেন শিবু সোরেনপুত্র। বুধবার সন্ধে সাতটা নাগাদ রাজভবনে পৌঁছন চম্পাই সোরেন। রাজ্যপাল সিভি রাধাকৃষ্ণনের কাছে ইস্তফা জমা দেন। ইস্তফাপত্র গৃহীত হওয়ার পরেই সরকার গঠনের জন্য রাজ্যপালের কাছে দাবি জানান জেএমএম নেতা হেমন্ত। মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁকেই জোটসঙ্গীরা সমর্থন করছেন বলে জানা গিয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে নতুন করে হেমন্তের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা ইডির। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবে ইডি। বিশেষ লিভ পিটিশন দেওয়া হবে সুপ্রিম কোর্টে। প্রসঙ্গত, হেমন্তের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরেই ইডির তরফে আবেদন করা হয়েছিল যেন জেলমুক্তির প্রক্রিয়া ৪৮ ঘণ্টা স্থগিত রাখা হয়। তাহলে শীর্ষ আদালতে আবেদন করতে পারবে ইডি। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। উল্লেখ্য, জেলবন্দি আরেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জামিন পেলেও ইডির আবেদনের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। হেমন্তের ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটবে? সরকার গঠনের আগেই কি তাঁকে ফিরতে হবে জেলে?