কলকাতার ঐতিহাসিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর আজ এক গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী। ভারতীয় নৌবাহিনীর দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক তিনটি যুদ্ধজাহাজ

কলকাতার ঐতিহাসিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর আজ এক গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী। ভারতীয় নৌবাহিনীর দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত অত্যাধুনিক তিনটি যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সুরাত এবং আইএনএস নীলগিরি-র কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

সকালের প্রথম প্রহর থেকেই বন্দরের নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, কলকাতা পুলিশ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার কড়া নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা এবং বিশিষ্ট অতিথিরা।

দেশীয় প্রযুক্তি ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর দর্শনকে সামনে রেখে নির্মিত এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় নৌ-শক্তির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং এই যুদ্ধজাহাজগুলি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

অনুষ্ঠানস্থলে নৌবাহিনীর ব্যান্ডের সুর, গার্ড অব অনার এবং আনুষ্ঠানিক কমিশনিং পর্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর আবহ। যুদ্ধজাহাজগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল।

আইএনএস নীলগিরি আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন ফ্রিগেট হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। অন্যদিকে আইএনএস সুরাত উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা ও অত্যাধুনিক সেন্সরে সজ্জিত একটি ডেস্ট্রয়ার। আইএনএস দুনাগিরিও বহুমুখী যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রশংসা করে বলেন, ভারত এখন শুধু নিজের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই কমিশনিং অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর কার্যত জাতীয় গুরুত্বের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উপস্থিত অতিথি, নৌসেনা সদস্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ ও গর্বের আবহ।

ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে এই তিন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতিকে আরও সুসংহত করবে। দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এই দিনটি এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post