সিএনজি ভরতে লম্বা লাইন, কেন জানেন? নিউ টাউন থেকে বেহালা, সমস্যায় গাড়ি চালকরা


খবর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : চাহিদা আকাশছোঁয়া, জোগান সীমিত। যার জেরে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) চালিত গাড়ি কিনেও বিপাকে পড়ছেন গাড়ির মালিক ও চালকরা। শহর কলকাতাতে এই মূহুর্তে মাত্র ১০টি সিএনজি পাম্প আছে, যার মধ্যে ৩টি রাজারহাট নিউ টাউনে পড়ে। ওই তিনটির মধ্যে অ্যাকশন এরিয়া ৩-এ ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে দিনের বেশিরভাগ সময়ে গ্যাস পাওয়া গেলেও বাকি দু’টিতে সরবরাহ অনিয়মিত।

এর ফলে সাপুরজি মোড়ের কাছে একটি পাম্পেই মাঝরাত থেকে ক্যাব চালকদের লম্বা লাইন পড়ছে গাড়িতে সিএনজি ভরার জন্য। অভিযোগ, দিনের আলো ফুটে বেলা গড়ালেও অধিকাংশ গাড়িতে গ্যাস ভরা যাচ্ছে না জোগানে ঘাটতির জন্য। এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে গাড়ি চালকদের মধ্যে। বেশ কয়েকবার চালকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে ওই পাম্পে।

প্রতিদিন পরিবেশবান্ধব গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে রাজ্যে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত ছোট গাড়ি (ইভি) ও সিএনজি গাড়ির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে শহর কলকাতায়। অথচ, যে পরিমাণ ইভি চার্জিং স্টেশন বা সিএনজি পাম্প থাকার কথা, তা নেই। ফলে হয়রানি হচ্ছে গাড়ি চালকদের। নিউ টাউনে বেশ কিছু ইভি চার্জিং স্টেশন বানিয়েছে এনকেডিএ।

৬টি পেট্রল পাম্পের মধ্যে তিনটিতে সিএনজি সুবিধা আছে। অথচ অনিয়মিত সরবরাহের ফলে সুফল মিলছে না। রোজ কয়েক হাজার গাড়ি সিএনজি ভরার জন্য লাইন দেয় সাপুরজি সংলগ্ন পাম্পে। ফলে গ্যাস ভরতে দুপুর গড়িয়ে যায়।

বাবাই বিশ্বাস নামে এক ক্যাবচালকের কথায়, ‘পাম্পে গিয়ে গ্যাসের লাইনে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা দাঁড়াতে হয়। এতটা সময় যদি সিএনজি ভরাতে চলে যায়, ভাড়া খাটব কখন?’ জ্বালানির খরচ কম হবে ভেবে ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করে সিএনজি গাড়ি কিনেছেন রাজারহাটের মাধব কর্মকার।

তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভাড়া খাটেন, তাঁরা ৩-৪ ঘণ্টা লাইন দিতে পারেন। প্রাইভেট গাড়িও কেন একই লাইনে দাঁড়াবে? আমাদের আলাদা লাইন হওয়া উচিত।’ একটি অ্যাপ ক্যাবের মালিক ইলিয়াস মোল্লার বক্তব্য, ‘পেট্রলের দাম লিটারে ১০৫ টাকা, সিএনজি ৮৯ টাকা। একটি গাড়ি পেট্রলে যতটা মাইলেজ দেবে, তার থেকে লিটারে অন্তত ১৫ টাকা কম দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ মাইলেজ পাওয়া যায়। তাই পাম্পগুলিতে এত ভিড়।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া ৩-এর কুলবেড়িয়ার পাম্পে গাড়ির লাইন বাড়তে বাড়তে আর্মি ম্যানেজমেন্ট কলেজ পর্যন্ত চলে যায়। মেন রোডেও গাড়ির ভিড় লেগে থাকে। তাতে বেশ কয়েক বার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। অথচ পাম্পের বাইরের রাস্তায় যানজট লেগে থাকলেও ট্র্যাফিক পুলিশের দেখা মেলে না বলে অভিযোগ।

ওই পাম্পের ভরসার বছর দু’য়েক আগে সিএনজি-চালিত বেসরকারি বাস রাস্তায় নামানো হয়। সাপুরজি বাস টার্মিনাস থেকে বাসগুলি নিয়মিত উল্টোডাঙা যায়। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ওই রুটে বাস ও অটো চালকরাও সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন।

নিউ টাউনের বাইরেও গড়িয়া, নিউ আলিপুর, কসবা, বেলগাছিয়া, ঠাকুরপুকুর, টালিগঞ্জ, নাকতলায় সিএনজি সরবরাহ করে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল)। নদিয়ার কল্যাণী, হুগলির বাঁশবেড়িয়া, বৈদ্যবাটিতেও সিএনজি সরবরাহ করে বিজিসিএল। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুর্গাপুর থেকে কন্টেনারে করে এই গ্যাস আসে কলকাতায়।

যতদিন না পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি কলকাতায় গ্যাস আসবে, তত দিন এই সমস্যার সমাধান হবে না। বিজিসিএল-এর এক কর্তার কথায়, ‘বর্ধমান থেকে কলকাতা পাইপলাইন পাতার কাজ অনেকটা এগোলেও মাত্র ১ কিলোমিটার পথে জমি-জট থাকায় কাজ শেষ করা যায়নি।’

Post a Comment

Previous Post Next Post