বিরল টিউমার, অপারেশনে তাক লাগানো সাফল্য মেদিনীপুর মেডিক্যালে



মেদিনীপুর: বিশ্বে মাত্র ১২ জনের হয়েছে, এমনই একটি বিরল অস্ত্রোপচার এ বার সফল হলো মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। ব্রেস্ট টিউমারে আক্রান্ত এক মহিলার প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকদের টিম। তাঁর স্তনে থাকা পাঁচ কেজির একটি টিউমার অপারেশন করে বের করা হয়েছে। মেদিনীপুর মেডিক্যালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই টিউমারটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২০ সেন্টিমিটার। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসকের বোর্ড গঠন করে এই অপরেশন করা হয়।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত কুমার রাউত বলেন, ‘এই রোগটি খুবই বিরল। সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। আমাদের চিকিৎসকদের টিম খব ভালো কাজ করেছেন। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হতো না।’

প্রায় আট বছর আগে দাঁতন থানা এলাকার বাসিন্দা ভূতনাথ কিস্কুর সঙ্গে বিয়ে হয় খুকুমণি কিস্কুর। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান আছে। বছর সাতেক আগে খুকুমণির নজরে আসে, তাঁর স্তনে ফোঁড়া মতো কিছু একটা হয়েছে। প্রথমে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ব্রেস্ট টিউমার হয়েছে। দীর্ঘ দিন হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসা করান। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। ধীরে ধীরে টিউমারটি আকারে বাড়তে থাকে।

অন্য এক চিকিৎসক তাঁকে অপারেশনের পরামর্শ দেন। কিন্তু অভাবের সংসারে টাকা জোগাড় করতে না পারায় আরও কিছুদিন কেটে যায়। মাসখানেক আগে বাড়িতেই একদিন হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। বেলদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এর পরে মেদিনীপুর মেডিক্যালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয় তাঁকে। টেস্ট করতে গিয়ে দেখা যায়, মিনিটের মধ্যে তাঁর রক্তে গ্লুকোজ় লেভেল নেমে যাচ্ছে। স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। খানিকটা সামলে রোগী জানান, তাঁর ডান দিকের স্তনে একটি বিশাল টিউমার রয়েছে গত ৭–৮ বছর ধরে। টেস্ট করতে গিয়ে ধরা পড়ে, ব্রেস্ট টিউমারের সঙ্গে রিকারেন্ট হাইপোগ্লাইসেমিয়া রয়েছে তাঁর।

অর্থাৎ বার বার তাঁর গ্লুকোজ় লেভেল নেমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এর পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, এটি ফিলোডস টিউমার। যেটি আইজিএফ–২ (Insulin like Growth Factor-2) ক্ষরণ ঘটাচ্ছে। এই আইজিএফ–২–এর টেস্টের ব্যবস্থা নেই ভারতে। তাই এর বদলে এক্সটেনসিভ এন্ডোক্রিনোলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে তাঁদের সংশয় দূর করেন চিকিৎসকরা। এটি অত্যন্ত বিরল বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

এরপর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন, সার্জারি, কার্ডিয়োলজি ও অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের সিনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। ২০ ডিসেম্বর সফল অপারেশন হয়। রোগী এখন সুস্থ আছেন বলে জানা গিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post