ছোঁয়া যাচ্ছে না সবজি, হাত দিলেই ছ্যাঁকা, কত দাম হাওড়ার পাইকারি বাজারে?


হাওড়া : নাগাড়ে বৃষ্টিতে নাজেহাল মানুষ। এবার তার সরাসরি প্রভাব পড়ল  সবজির দামে। বাজারে গেলেই লাগছে পকেটে ছ্যাঁকা। শহরের অন্যতম সস্তার বাজার হিসেবে খ্যাত হাওড়া স্টেশন লাগোয়া পাইকারি সবজি বাজার। সেখানেও আগুন দাম সব সবজির। ফুল, ফল, সবজি,  সবই যেন সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। 

রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে কাঁচা সবজি আসে এই বাজারে। এখান থেকে কলকাতা ও হাওড়ার বড় বড় বাজারে যায় সেসব সবজি। কিন্তু কৃষকদের কথায়, এবারের টানা বৃষ্টিতে, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা যেমন দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, হুগলি এ নদিয়াতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজির চাষ। মাঠের সবজি মাঠেই নষ্ট হয়েছে প্রায়। যেটুকু সামান্য ফসল পাওয়া গেছে তাও চাহিদা তুলনায় অনেকটাই কম। এর ফলে সবজির দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। বৃষ্টি না কমলে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতারা।  

পাইকারি সবজি বাজারের বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমদানি কম থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অন্য রাজ্য থেকে সবজি আনছেন। বেঙ্গালুরু, রায়পুর, চেন্নাই এবং রাঁচি থেকে টমেটো, বেগুন, ডাঁটা, ক্যাপসিকাম, কাঁচালঙ্কা, ফুলকপি এবং বাঁধাকপি  বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে নিয়ে আসছেন। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে। হাওড়া স্টেশন এলাকার, ভেজিটেবল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক, বিনয় শোনকার জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টির জন্যই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজির আমদানি কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বাইরের রাজ্য থেকে সবজি আনছেন।

বৃষ্টি না কমলে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। বেশ কিছু সবজির দাম দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিক্রেতারা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের এক চাষী এবিপি আনন্দকে জানালেন, 'মাঠে ফসল পচে যাওয়ায় বাজারে কম সবজি আনতে পারছি। তাই দাম চড়া। কম বিক্রির কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।'

পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি খুচরো বাজারে সবজি যায়। স্বাভাবিকভাবে খুচরো বাজারেও সবজির চড়া দাম। হাওড়ার পিলখানা বাজারের এক খুচরো বিক্রেতার কথাতেও হতাশা। ' এই বছরে পরিস্থিতি খুব খারাপ। পাইকারি বাজারে যা দাম তার থেকে কিলো প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে খুচরো বাজারে বিক্রি করি। তবে সবজির এত দাম যে খদ্দেররা সামান্য পরিমাণ সবজি নিয়ে ঘরে যাচ্ছেন। আমাদের বিক্রিবাটা কমে গেছে।' কালীবাবু বাজারের এক বিক্রেতার একই মত।  সকলেই কার্যত প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে ... কখন থামবে বৃষ্টি ! 

Post a Comment

Previous Post Next Post