প্রকৃতির রুদ্ররূপে লন্ডভন্ড জম্মু-কাশ্মীরের রাম্বান ও রিয়াসি। এই ২ জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াসির একই পরিবারের সাত সদস্য। টানা বৃষ্টিপাতের জেরে এই বিপর্যয় ঘটে বলেই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জম্মু-শ্রীনগর ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ। ব্যাহত যান চলাচল। ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারঅভিযান। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেহগুলি উদ্ধার করেছে।
অন্যদিকে, রাম্বান জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনায় একাধিক স্কুল ও বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হড়পা বান ও ভূমিধসে ভেসে গিয়েছেন পাঁচজন। একজন এখনও নিখোঁজ।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা খারাপ আবহাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে ১৬০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে বহু তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। কাটরা থেকেট্রেন পরিষেবা টানা পাঁচ দিন বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি, একাধিক জায়গায় ধ্বংস হওয়ায় শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক এখনও বন্ধ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জম্মুর সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য অনলাইন ক্লাস চালুর কথাও ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ টানা দু দিনের প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, অল্পের জন্য ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা এড়ানো গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আরও এক থেকে দেড় দিন বৃষ্টি হলে বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করত। জল এখন নামছে ঠিকই,যদি দু’দিনে এই পরিস্থিতি হয়, তবে চার দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারত, তা ভেবে আতঙ্কিত সকলে।"
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাতে জম্মু-কাশ্মীরের রাম্বান জেলার রাজগড় এলাকায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে হড়পা বানের প্রবল স্রোতে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যায়। বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাৎক্ষণিক ত্রানসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী ত্রাণশিবির গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে খাদ্য, জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, রিয়াসি জেলায় মেঘভাঙনের জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু। জানা গেছে, একই পরিবারের সাতজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাদের প্রিয়জনদের সন্ধান চালাচ্ছেন।
রিয়াসি ও রাম্বান ছাড়াও জম্মু-কাশ্মীরের আরও কয়েকটি জেলায় ভূমিধসের খবর এসেছে। বেশ কিছু বাড়ি ধসে পড়েছে এবং একটি স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাম্বান, জম্মু, পুঞ্চ, কিশতওয়ার এবং উধমপুর জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে আবহাওয়া দফতর কমলা সতর্কতা জারি করেছে। রাম্বান ও রিয়াসির আগে কিশতওয়ার ও কাঠুয়া জেলাতেও প্রকৃতির তান্ডবলীলায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।