নিয়োগের তিন সপ্তাহ পর কাজে যোগ দিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য ৷ গত 29 অক্টোবর রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক আশিস ভট্টাচার্যের নাম অনুমোদন করেন ৷ এই তিন সপ্তাহ উপাচার্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে ৷ অনেক জরুরি কাজও আটকে গিয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি এদিন তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ৷
মঙ্গলবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে মালদা পৌঁছন নয়া স্থায়ী উপাচার্য ৷ তাঁকে স্বাগত জানাতে মালদা স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আধিকারিকরা ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে তিনি প্রথমে সেখানকার কর্মী, আধিকারিক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মিলিত হন ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু তথ্য জেনে নেন ৷ এর পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ৷
উপাচার্য জানান, "এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু সমস্যার কথা এখানে আসার আগেই জানতে পেরেছি ৷ তার মধ্যে মূল সমস্যা সেমেস্টার ফি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ৷ এখানে সেমেস্টার ফি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ এতে ছাত্রছাত্রীরা একটি সেমেস্টার দেওয়ার পর পরের সেমেস্টার দিতে রাজি হয়নি ৷ বিষয়টি আমার কানে এসেছে ৷ সেই সমস্যার কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটাই আমার প্রথম কাজ ৷ এর জন্য আগামিকালই সবাইকে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা ভেবেছি ৷ ইতিমধ্যেই ছেলেমেয়েদের জীবন থেকে কয়েক মাস সময় নষ্ট হয়েছে ৷ এই সমস্যা যাতে দীর্ঘায়িত না-হয়, সেই চেষ্টা আমার থাকবে ৷"
আশিস ভট্টাচার্য আরও বলেন, "এখানে আধিকারিক থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের কিছু সমস্যা রয়েছে বলে শুনেছি ৷ আমি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসব ৷ যেমন, অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের একটি প্রোমোশন কয়েক বছর ধরে আটকে রয়েছে ৷ সেই বিষয়টি আমাকে দেখতে হবে ৷ এখানে নিরাপত্তার সমস্যার কথাও শুনেছি ৷ সবার সঙ্গে কথা বলা হলে নিশ্চয়ই আরও নানাবিধ সমস্যার বিষয় উঠে আসবে ৷ সমস্যাগুলি দ্রুত মিটিয়ে ফেলা আমার অন্যতম কাজ ৷ উপাচার্য হলেও আমি একজন শিক্ষক ৷ তাই শিক্ষা এবং গবেষণার প্রতি আমার সবসময় গুরুত্ব থাকবে ৷ তার জন্য আরও বেশি ফান্ডিং প্রয়োজন ৷ কারণ, ফান্ডিং ছাড়া গবেষণা সম্ভব নয় ৷"
উপাচার্য আরও বলেন, "আরও নতুন বিভাগ কীভাবে এখানে চালু করা যায়, সেই বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করব ৷ বারবার শুনেছি, এটা প্রান্তিক বিশ্ববিদ্যালয় ৷ তাই ছাত্রছাত্রীদের দিক দেখাই আমার প্রধান কাজ ৷ পড়ুয়ারা উপকৃত হলেই সমাজ উপকৃত হবে ৷ আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অশিক্ষক, গবেষক, সবার মুক্ত চিন্তাভাবনার জায়গা ৷ বিতর্কের মাধ্যমে আমাদের ধ্যান ধারণা আরও অগ্রসর হয় ৷ সেই পরিবেশ যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে সেদিকে আমার সজাগ দৃষ্টি থাকবে ৷"