অবশেষে চার মাসের প্রতীক্ষার পর শনিবার প্রকাশিত হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) ‘দাগি’ প্রার্থীদের তালিকা। ২০১৬ সালের স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট (SLST)-এর মোট ১,৮০৪ জন প্রার্থীর নাম এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক সপ্তাহের মধ্যে তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে শনিবার রাত ৮টা নাগাদ কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা সামনে আসতেই হুলস্থূল। নাম রয়েছে শাসক কাউন্সিলার থেকে শুরু করে বিধায়কের পুত্রবধূর নামও। যাকে কেন্দ্র করে প্রবল অস্বস্তিতে শাসক শিবির।
এসএসসির তরফে প্রকাশিত তালিকায় কেবল প্রার্থীদের নাম ও রোল নম্বর উল্লেখ রয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট স্কুল বা বিষয়ের তথ্য নেই। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই তালিকায় যে সকল প্রার্থীদের নাম রয়েছে তাদের কেউই আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের প্রথম SLST থেকে যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে এবং আদালতেও যা নিশ্চিত হয়েছে, তাঁদের নামই প্রকাশিত হয়েছে।
এসএসসি আরও জানিয়েছে, দ্বিতীয় SLST-এর জন্য আবেদনকারীদের নাম, রোল নম্বর ও বাবার নাম মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এর ফলে বহু প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু হয়নি। যাঁদের ভুলবশত অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও পরীক্ষায় বসতে পারবেন না।
অন্যদিকে, তালিকা সামনে আসতেই যোগ্য প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, তালিকা প্রকাশ হলেও 'ন্যায় বিচার' পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রার্থী বলেন, “তালিকা প্রকাশ হয়েছে, এটা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু কেন আমাদের নতুন প্রার্থীদের সঙ্গে আবার পরীক্ষা দিতে হবে? আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক।” অনেকেই ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়। যদিও যোগ্য প্রার্থীদের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ১,৮০৪ জন 'দাগি' প্রার্থীদের কোনওভাবেই স্কুলে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আদালত একইসঙ্গে শূন্যপদে নতুন নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেয়। মে মাসে সেই নির্দেশ অনুযায়ী নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়।