প্যারোডির সুরে সাতসকালে জঞ্জাল ফেলার ডাক, ঘুম ভাঙাবে কলকাতা পুরসভা


এ বার থেকে রোজ সকালে প্যারোডির সুরে ঘুম ভাঙবে কলকাতার। পুরসভার সাফাই কর্মীরা আর বাঁশি বাজিয়ে ঘরের বর্জ্য ফেলতে কাউকে ডাকবেন না। বাঁশির বদলে, ব্যাটারি চালিত জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়িতে বক্সে বাজবে গান।
শোনা যাবে, উষা উত্থুপের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘উরি...উরি বাবা... প্রেম জেগেছে আমার মনে, বলছি আমি তাই... ’– এর প্যারোডি। বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ির মাইকে বাজানো হবে, ‘পুরসভা ডাক দিয়েছে বলছি আমি তাই, নির্ধারিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা চাই। রাস্তায় ফেলবে না, মাঠে ফেলব না, হতে পারে জরিমানা তাই।’

জঞ্জাল সংগ্রহে বাঁশির বদলে প্যারোডি ব্যবহারের পিছনে পুর কর্তাদের যুক্তি, বাঁশি দীর্ঘ দিন ধরে বাজানো হচ্ছে তাই শহরের মানুষ ওই শব্দের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছেন। এ বার নতুন প্যারোডিতে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। বর্জ্য ফেলে দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হবেন সকলে। 

মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘জঞ্জাল পৃথকীকরণের সমস্যা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সচেতনতার প্রসার করা পুর বোর্ডের কাজ। যাঁরা কাজ না করে শুধু খই ভাজেন, তাঁরা অনেক কথা বলেন।’

যদিও পুরসভার বিরোধী দলের কাউন্সিলাররা বলছেন, বর্তমান পুর বোর্ডের বাঁশি বাজানোর দম ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই প্যারোডির আশ্রয় নিতে হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সজল ঘোষ বলেন, ‘পুরসভাই বলে দিচ্ছে ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই।’ কারণ, ওই বাঁশির বিরুদ্ধে তো দিন দুপুরে চুরি আর রাতে ডাকাতির অভিযোগ। যাঁর চাপে হুইসেল (বাঁশি) থেকে ছোট্ট বলটা বেরিয়ে বাঁশি অকেজো হয়ে গিয়েছে, তাঁকে মুখ লুকোতে এখন প্যারোডির আশ্রয় নিতে হচ্ছে।’

কেন প্যারোডি ব্যবহারের পরিকল্পনা করল পুরসভা? বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য কলকাতা পুরসভা বাড়ি বাড়ি, নীল ও সবুজ বালতি বিলি করেছে। সবুজ বালতি পচনশীল ও নীল বালতিতে অপচনশীল বর্জ্য রাখার কথা। অভিযোগ, অনেকে এই সব বালতি আটা, চাল রাখার জন্য ব্যবহার করছে। বার বার বলেও, মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। তাই জঞ্জাল সংগ্রহ আর পৃথকীকরণে জনপ্রিয় গানের প্যারোডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের মেয়র পারিষদ তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘প্যারোডি সব সময়ে জনপ্রিয়। মানুষ গ্রহণ করে। তাই জঞ্জাল সংগ্রহ এবং পৃথকীকরণের কাজে আমরা প্যারোডি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ পুরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, জঞ্জাল পৃথক করে সংগ্রহ করা নিয়ে সাধারণ মানুষ এতই উদাসীন যে, ধাপায় পুরসভার জঞ্জাল পৃথকীকরণের যে ইউনিট রয়েছে তা পুরোদমে ব্যবহার করা যায় না।


Post a Comment

Previous Post Next Post