কমপক্ষে ১০ জন পড়ুয়ার সই করা অভিযোগপত্র উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে জমা পড়ে বুধবার। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই উপাচার্য দ্রুত পদক্ষেপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর থেকে একজন করে) নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত চার জন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন না।
অভিযুক্তদের দু’জন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যজন প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। দ্বিতীয় বর্ষের ফিল্ম স্টাডিজ়ের এক ছাত্রীর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্ররা তাঁদের উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নীতি–পুলিশি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে এক ছাত্র এবং ছাত্রী হাত ধরে ঘোরায় তাঁদের উপরে চড়াও হন অভিযুক্তরা। বলা হয়, এ ভাবে ক্যাম্পাসে ঘোরা যাবে না। অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। এক অভিযোগকারিণী ছাত্রীর দাবি, ‘অভিযুক্তদের দু’জন তীব্র নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেন এবং তাঁদের একজন এক ছাত্রীর কব্জি মুচড়ে দেয়।’
অভিযোগপত্রে ছাত্রছাত্রীরা এই ‘আক্রমণাত্মক’ এবং ‘জঘন্য’ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন, তাঁদের ‘সীমা অতিক্রম না করার’ এবং ‘করলে পরিণতি ভালো হবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা জানান, তাঁরা নিরাপত্তাকর্মী এবং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরে আরও ছাত্রছাত্রীকে জড়ো করে অভিযুক্তদের মোকাবিলা করেন। দু’পক্ষের মধ্যে দু’দফা বাদানুবাদের পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ছাত্রই গত মার্চে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। অভিযুক্তদের একজন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র) ইংরেজির ওই ছাত্রকে কামড়ে দেন বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাঁর চোখেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ছাত্রকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।