হত্যাকাণ্ডের 'মাস্টারমাইন্ড'হাসিনার মৃত্যুদন্ড,আদালতের রায়ে তোলপাড় বাংলাদেশ


বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, ২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ছিলেন “মাস্টার মাইন্ড”। আদালত হাসিনাকে হত্যার প্ররোচনা, নির্দেশ এবং হিংসা রোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

একই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ১২টি হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় আসামি, প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হলে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর আদালত কক্ষে উপস্থিত সকলেই আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহিদরা ন্যায়বিচার পেয়েছে, দেশও ন্যায়বিচার পেল।” আদালত নির্দেশ দিয়েছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার। উল্লেখ হাসিনা গত ১৫ মাস ধরে ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। 

শেখ হাসিনা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। আদালত আরও দাবি করেছে যে শেখ হাসিনা হিংসাকে উস্কে দিয়েছিলেন যার ফলে পড়ুয়াদের মৃত্যু হয়েছিল। বাংলাদেশের একজন ট্রাইব্যুনাল বিচারক বলেছেন যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং ২,৪০০ জন আহত হন। 

এদিকে, আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন যে তার মায়ের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। তিনি দাবি করেন, হাসিনা ভারতে নিরাপদে আছেন এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছে। ওয়াজেদ আরও বলেন, শেখ হাসিনা পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং দেশে তার ব্যাপক জনসমর্থন আছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দল হওয়ায় এই রায় তারা সহজভাবে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post