রবিবার 'বন্ধ' গ্রিন লাইনে এসপ্লানেড মেট্রোর কাউন্টার, ভোগান্তির সম্ভাবনা ইডেন-মুখী দর্শকদের


শুক্রবার থেকে কলকাতায় শুরু হয়েছে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট ম্যাচ ৷ প্রথম দুই দিনে ইডেনমুখী হয়েছে হাজার-হাজার দর্শক ৷ তৃতীয় দিন অর্থাৎ, রবিবারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দর্শকের ইডেনমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ কিন্তু, সেদিনই কলকাতা শহরের লাইফ লাইন মেট্রো রেলের পরিষেবায় পরীক্ষামূলকভাবে বন্ধ থাকছে টিকিট কাউন্টার ৷ বিশেষত, গ্রিন লাইনে এসপ্লানেড স্টেশনেও খোলা থাকবে না-কোনও কাউন্টার ৷ ফলে পরিস্থিতি ঘোরালো হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে ৷

উল্লেখ্য, পরীক্ষামূলকভাবে ব্লু-লাইন অর্থাৎ, কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরের মাঝে একাধিক স্টেশন কাউন্টার লেস করা হয়েছিল ৷ এবার সেই একই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে গ্রিন লাইন অর্থাৎ, হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটের মেট্রো স্টেশনগুলিতে ৷ এবার থেকে রবিবার করে চারটি স্টেশনে কোনও টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে না ৷ স্টেশনগুলি হল- সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার, মহাকরণ এবং এসপ্ল্যানেড ৷

এই স্টেশনগুলিতে যাত্রীরা স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন ৷ আর তা না-হলে, অটোমেটিক স্মার্ট কার্ড রিচার্জ মেশিন থেকে টোকেন কিনে ও আমার কলকাতা মেট্রো অ্যাপে ডিজিটাল টিকিট কিনে যাতায়াত করতে পারবেন ৷ তবে, রবিবারের ব্যস্ত সময়ে কিছুক্ষণের জন্য একটি কাউন্টার খোলা রাখা হবে ৷ প্রশ্ন উঠছে, শহরতলি ও জেলা থেকে বহু দর্শক আসবেন, যাঁরা স্মার্ট কার্ড অথবা অটোমেটিক স্মার্ট কার্ড রিচার্জ মেশিন সম্পর্কে সড়গড় নন ৷ আবার 'আমার কলকাতা মেট্রো' অ্যাপ সম্পর্কেও অনেকে না-জানতে পারেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে ?

এই নিয়ে কলকাতা মেট্রো রেলের এক আধিকারিক বলেন, "রবিবার মেট্রোর পরিষেবা শুরু হয় সকাল ন'টার সময় ৷ সকাল ন'টায় সময় খেলাও শুরু হচ্ছে ৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটপ্রেমীরা আগেই ইডেনে ঢুকে পড়বে ৷ পিক সময় ধরা হয় বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত ৷ তাই ওই সময়ের মধ্যে কাউন্টার খোলা থাকছে ৷ তাই যাত্রীদের কোনও সমস্যা হবে না ৷ যদি যাত্রীদের কোনোরকম সমস্যা হয়, সেই ক্ষেত্রে কাউন্টার বন্ধ থাকলেও স্টেশন চত্বরে রেল কর্মীরা থাকবেন ৷ কর্তৃপক্ষ এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না, যা যাত্রীদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে ৷"

কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ছয় মাস আগে এই কাউন্টার লেস মেট্রো স্টেশন চালু করা হয়েছিল ৷ সেই সময় যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল ৷ এবার গ্রিন লাইনে কাউন্টার লেস স্টেশন কতটা সফল হয়, সেটাই যাচাই করতে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ নয়া এই ব্যবস্থা যাত্রীদের মধ্যে কেমন সাড়া ফেলেছে, তা দেখার পরেই অন্যান্য দিনেও এই পরিষেবা চালু করা যায় কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ৷

Post a Comment

Previous Post Next Post