ওই অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত অবশ্য উপস্থিত ছিলেন না চিরঞ্জীব। কিন্তু শেষে ওই মঞ্চ থেকেই সংগঠনের আহ্বায়ক তথা তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ, ‘ভোট আউট বিজেপি’ স্লোগান তোলেন। ফলে রাজনৈতিক ভাবে এই মঞ্চ যে বিজেপির বিরুদ্ধে চড়া সুর তুলেছে তা বলাই বাহুল্য। কী ভাবে ব্রিটিশ বিরোধী শিক্ষা আন্দোলন থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে, এ দিন তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পেশ করেন চিরঞ্জীব। বলেন, ‘১৯৫২–য় বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষ। সেই আত্মত্যাগের কারণেই সারা বিশ্বে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। এটা আমাদের কাছে একটা অত্যন্ত গর্বের। আমি কর্মসূত্রে পৃথিবীর বহু দেশে ঘুরেছি। জার্মানি থেকে রাশিয়া, ফ্রান্স সর্বত্র দেখেছি কী ভাবে মাতৃভাষাকে সেখানকার মানুষ আগলে রাখেন। আমাদেরও আমাদের মাতৃভাষাকে আগলে রাখতে হবে।’
এই প্রসঙ্গেই তিনি বাংলার উপরে যে সব আক্রমণ হচ্ছে তা প্রতিহত করার ডাক দেন। প্রসঙ্গত, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষীদের উপরে আক্রমণ, বাংলাদেশি সন্দেহে জেলে পুরে রাখা, বাংলাদেশে অকারণে পুশ–ব্যাক করা নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে এই গণ কনভেনশন থেকেও আওয়াজ ওঠে। ‘সার’–এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, আইনজীবী অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। উপস্থিত ছিলেন মতুয়া, নমশূদ্র, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের অভিমত, সাধারণত এই ধরনের মঞ্চে রাজনৈতিক ও সমাজকর্মীদের উপস্থিতি থাকেই। কিন্তু সরাসরি বিজেপি বিরোধী একটি গণ কনভেনশনের মঞ্চে যাদবপুরের উপাচার্যের উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য তৈরি করেছে।
এই মঞ্চের তরফে আহ্বায়ক তন্ময় বলেন, ‘২০২১–এর জানুয়ারিতে আমরাই নো ভোট টু বিজেপি স্লোগান তুলেছিলাম। যা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ বার আমরা ভোট আউট বিজেপি স্লোগান তুলছি। কারণ বিজেপি বাঙালিকে তার নিজের দেশেই পরবাসী করতে চায়। ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে চায়।’