নয়াদিল্লি: বাংলা কি ব্যতিক্রম, যার জন্য রাজ্য পুলিশকে এখন থেকেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে নিয়ে আসতে হবে— মঙ্গলবার এমনই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ–সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) চলাকালীন বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) নিরাপত্তার প্রসঙ্গ নিয়ে এ দিন শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে মামলাকারী সংগঠন ‘সনাতনী সংসদ’–এর তরফে আইনজীবী ভি গিরি অভিযোগ করেন, বাংলায় একের পর এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটছে। বিএলও–দের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানেই রাজ্য পুলিশকে এখন থেকে কমিশনের অধীনে নিয়ে এসে কাজ করা অথবা প্রয়োজনে বিএলও–দের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহারের প্রসঙ্গ ওঠে। তবে বিচারপতিরা এখনই এ নিয়ে কোনও নির্দেশ দিতে রাজি হননি। বরং বিচারপতি বাগচি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাকে কেন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বলে ধরা হচ্ছে?
দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও বা কমিশনকে এ নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কি? এ বিষয়ে কমিশনকে বিস্তারিত হলফনামা দিতে বলেছে কোর্ট। পাশাপাশি সিজেআইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ— যদি রাজ্য সরকার নিরাপত্তার ব্যাপারে সহযোগিতা না–করে, তা হলে কমিশন প্রয়োজনে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। তারা প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে। বিএলও–দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা রাজ্যের পাশাপাশি কমিশনের দায়িত্ব বলে এ দিন জানিয়েছে কোর্ট। এ দিন মামলাকারীদের তরফে পশ্চিমবঙ্গে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, রাজ্যে একের পর এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে৷ বিএলও–দের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সুরক্ষা দিতে হবে৷ মাঝপথেই বিচারপতি বাগচি পাল্টা বলেন, ‘এর সপক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ আছে? একটা এফআইআর ছাড়া আর কিছুই আপনারা জমা দেননি৷’ সিজেআই কান্তের বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সবাই মনে করছেন তাঁরা হাইলাইটেড হবেন৷ বিএলও–রা তাঁদের কর্তব্য পালন করছেন৷ এখানে রাজ্য সরকার ও কমিশন সবার দায়িত্ব আছে৷’
কমিশনের কৌঁসুলি রাকেশ দ্বিবেদী যুক্তি দেন, রাজ্য সরকার যদি বিএলও-দের সুরক্ষা দিতে না পারে, রাজ্য পুলিশ যদি কর্তব্য পালন না করে, তা হলে আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য নিতে হবে৷’ কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়, বাংলায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিস ঘেরাও করা হয়েছে৷ এ নিয়ে কমিশনের তরফে রাজ্যকে কড়া চিঠিও দেওয়া হয়েছে। দ্বিবেদীর সওয়াল, ‘আগে একটি বুথে ১৫০০ ভোটার ছিল৷ এখন বুথ পিছু ১২০০ ভোটার আছে৷ ৩৭ দিনে এই ভোটারদের সমীক্ষার কাজ করতে হবে৷ দিন প্রতি ৩৫-৩৭ জন৷ সারা দিনে সাত–আটটি বাড়িতে যেতে হবে৷ এখানে স্ট্রেসের কোনও কথাই নেই৷ স্ট্রেস তৈরি হচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক দলগুলি চাপ তৈরি করছে৷’
এর পরে বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘আমরা নোটিস জারি করে আপনাদের বক্তব্য জানতে চাইছি৷ আপনারা খোলাখুলি জানান, কোন কোন রাজ্যে আপনাদের সমস্যা হচ্ছে? বিএলও-রা যদি নিরাপত্তা না পান, তাঁরা যদি স্বাধীন ভাবে কাজ করতে না পারেন, তা হলে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হবে৷’ এরপরেই নোটিস জারি করে কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার–সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট৷
শীর্ষ কোর্টের বার্তা—
— (বঙ্গে বিএলওদের হেনস্থা প্রসঙ্গে) এর সপক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ আছে? একটা এফআইআর ছাড়া আর কিছুই আপনারা জমা দেননি
— রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সবাই মনে করছেন তাঁরা হাইলাইটেড হবেন৷ বিএলও–রা তাঁদের কর্তব্য পালন করছেন৷ এখানে রাজ্য সরকার ও কমিশন সবার দায়িত্ব আছে
— (কমিশনের উদ্দেশে) আপনারা রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়ে৷ রাজ্য সরকার সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও ব্যবস্থা না নিলে আপনারা আমাদের কাছে আবেদন করুন৷ আমরা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব
— কেন বাংলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা যেখানে আলাদা পদক্ষেপ করতে হবে? আপনারা কি বলতে চান যে, দেশের সব রাজ্যের পুলিশকে কমিশন নিয়ন্ত্রণ করবে?