নতুন বিয়ের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ পরিণতি। ২৬ বছর বয়সী এক নববধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণ ও খরচ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি চরম অবসাদে ভুগছিলেন। যার জেরে নববধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
মৃত নববধূর নাম গণভি, এছাড়াও তাঁকে রাশি নামেও ডাকা হয়। তিনি বেঙ্গালুরুর রামমূর্তি নগর সীমানার অন্তর্গত বি চন্নসান্দ্রার বাসিন্দা। গত ২৯ নভেম্বর সুরজের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সুরজ একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মচারী এবং উত্তর বেঙ্গালুরুর বিদ্যারণ্যপুরার বিইএল লেআউটের বাসিন্দা।
রামমূর্তি নগর পুলিস জানিয়েছে, বুধবার গণভীকে তার বাপের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাজারো চেষ্টা সত্ত্বেও, বৃহস্পতিবার রাতে গণভির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের পর, মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে, পরিবার গণভির দেহ নিয়ে সুরজের বাড়িতে যায় এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের গ্রেফতারির দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিদ্যারণ্যপুরা পুলিস হস্তক্ষেপ করে এবং মৃতদেহটি ফিরিয়ে নিতে তাদের রাজি করায়। গণভির বাবা শশীকুমার এফআইআর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে, রামমূর্তি নগর পুলিস সুরজ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক হত্যার মামলা দায়ের করেছে। শশীকুমার অভিযোগ করেছেন যে ২৯ অক্টোবর বিয়ের পরপরই তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন যে, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দাবি ছিল বিলাসবহুলভাবে বিয়ে দিতে হবে। যার জেরে ২৩ নভেম্বর বিয়ের আয়োজন করতে হয়েছিল প্যালেস গ্রাউন্ডে। ওই একদিনের জন্য ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এরপরও ওদের চাহিদা মেটেনি। এমনকী আগের সপ্তাহে ১০ দিনের জন্য গণভি-সুরজ শ্রীলঙ্কা গিয়েছিল হানিমুনের জন্য। কিন্তু মধুচন্দ্রিমা যে দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা গণভি ভাবেনি। সেখানে গিয়েও সুরজ ওর উপর অত্য়াচার করে। তাই তারা ট্রিপ শেষ করার আগেই ফিরে আসে।
হানিমুন থেকে গণভি ২১ ডিসেম্বর ফেরে। তারপর বাপের বাড়িতে চলে আসে। সুরজ ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পলাতক। পুলিস তাদের খোঁজ চালাচ্ছে।