রাজ্যসভার তিন আসনের পদ্মের প্রার্থী হতে পারেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, অন্য আসনে কি মনোনয়ন পাবেন প্রকাশ চিক!


প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সন্তোষমোহন দেবের কন্যাকেই কি পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চলেছে বিজেপি? এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে। সম্প্রতি রাজ্যের তিনটি রাজ্যসভা আসনে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, পদ্মা শিবিরে। কারা হবেন এই তিন আসনের প্রার্থী? রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ‘ওড়িশা মডেল’ অনুসরণ করে তৃণমূলের পদত্যাগী তিন সাংসদকেই ফের রাজ্যসভায় পাঠাবে বিজেপি। তবে এখনও বিজেপির তরফে ওই তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।

তৃণমূলত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায়কে ফের বিজেপি মনোনয়ন দিতে চলেছে, এমনটাই বিজেপি সূত্রে খবর। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসেছিলেন। ওই দিন তাঁর সঙ্গে সুখেন্দুশেখর সাক্ষাতও করেন। এর পর রাজ্য বিজেপি তাঁর সংসদের উচ্চকক্ষে ফেরা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত। তা ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভাবে সুখেন্দুশেখরের প্রয়াত পিতা শিবেন্দুশেখর রায়কে স্মরণ করেছিলেন, তা-ও তাঁর রাজ্যসভার প্রত্যাবর্তনের একটি অন্যতম ইঙ্গিত বলেই অনেকে মনে করছেন।

অপরদিকে, তৃণমূলের সাংসদপদ ছাড়ার পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন সন্তোষমোহন-কন্যা সুস্মিতা। সেই সময় ভাবা হয়েছিল, এ বার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার পদ ছেড়ে আবারও অসমের রাজনীতিতে মনোননিবেশ করবেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যে হেতু পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু দফায় সুস্মিতা সংসদে গিয়েছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়া নিশ্চিত। কারণ, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের পর ২০২১ সালে মানস ভূঁইয়ার ছেড়ে দেওয়া রাজ্যসভা আসনে সাংসদ করা হয়েছিল তাঁকে। ২০২৩ সালে তাঁর রাজ্যসভায় আসনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ২০২৪ সালে সুস্মিতাকে সংসদে পাঠান। ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুস্মিতা রাজ্যসভার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। সেই কারণেই তাকে আবারও প্রার্থী করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুখেন্দুশেখর এবং সুস্মিতার সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন আরও এক তৃণমূল সাংসদ। তিনি আলিপুরদুয়ারের ভূমিপুত্র প্রকাশচিক বরাইক। বিজেপি সূত্রে খবর, তাঁকে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না এ বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। যেহেতু ভোটে নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে দিল্লি থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হবে বলেই জানাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির একটি সূত্র। যে হেতু এই উপনির্বাচনে একজন প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন, তাই এবারের নির্বাচনে যে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না তা একপ্রকার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই মুহূর্তে সম্মিলিত বিরোধী জোটের বিধায়ক সংখ্যা একশোর নীচে। তাই বিজেপির ঘোষিত তিন প্রার্থীর জয় এক প্রকার নিশ্চিত।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ৮ জুলাই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৫ জুলাই এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ জুলাই। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। একই দিন ভোটগ্রহণ শেষে ভোটগণনাও হবে। রাজ্যসভার এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসন শূন্য হওয়ায়। ওই আসনগুলিতে আগে প্রতিনিধিত্ব করতেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী এখন রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যেরাই এই উপনির্বাচনে ভোট দেবেন। ফলে প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিধানসভায় তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র তৈরি করার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

এই উপনির্বাচনের সঙ্গে অনেকেই ওড়িশার সাম্প্রতিক রাজনীতির মিল দেখছেন। বিজু জনতা দল (বিজেডি)-এর দলত্যাগী তিন রাজ্যসভার সাংসদকে বিজেপিতে যোগদান করানো হয়েছিল। মমতা মহন্ত, সুজিত কুমার এবং দেবাশিস সামন্তরায় রাজ্যসভার সদস্যপদ ও বিজেডি থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে তিন জনই বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় ফের নির্বাচনের সুযোগ পান। ২০২৪ সালে মমতা মহন্ত পদত্যাগের পর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একই বছরে সেপ্টেম্বরে সুজিত কুমার ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং উপনির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হন। চলতি বছর মে মাসে দেবাশিস সামন্তরায়ও বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সাম্প্রতিক রাজ্যসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। এই ঘটনাই ‘ওড়িশা মডেল’ হিসাবে দেশের রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post