এক বছরে দু’বার, ফের মহাকাশে মুখ পুড়ল ইসরোর! যান্ত্রিক ত্রুটিতে হারিয়ে গেল ‘কাজের ঘোড়া’? না কি নেপথ্যে অন্তর্ঘাত?


এক বছরে দু’বার। ফের ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহকে অন্তরীক্ষে পাঠাতে ব্যর্থ হল ইসরো (ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজ়েশন)। ৬৪তম উৎক্ষেপণের কিছু ক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক গোলযোগের মুখে পড়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তৈরি ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ বা পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। সত্যিই কি যান্ত্রিক ত্রুটি, না কি ব্যর্থতার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কোনও অন্তর্ঘাত? ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই। অন্য দিকে, বিতর্ক কাটাতে এই ইস্যুতে বিবৃতি দিয়েছেন খোদ ইসরোর চেয়ারম্যান।

নতুন বছরের গোড়ায় ধাক্কা খাওয়া এই অভিযানকে ঘিরে সন্দেহ দানা বাঁধার নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইসরো নির্মিত রকেটগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভরসাযোগ্য হল পিএসএলভি। মহাশূন্যে কৃত্রিম উপগ্রহ ছেড়ে আসার নিরিখে এর সাফল্যের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। একসঙ্গে ১০৪টি কৃত্রিম উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপনের রেকর্ড রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এই রকেটের। পিএসএলভিতে ভরসা করেই চন্দ্রযান-১ এবং মঙ্গল অভিযানে সাফল্য পায় ইসরো।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দু’দশকে মাত্র পাঁচ বার ব্যর্থ হয়েছে এ দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তৈরি ওই রকেট। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জেরে ইসরোর কাছে বরাবরই ‘ওয়ার্কিং হর্স’ বা ‘কাজের ঘোড়ার’ তকমা পেয়ে এসেছে পিএসএলভি। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) মে মাসে প্রথম বার আঘাত লাগে সেই ভরসায়। সময়ের চাকা ঘুরে ২০২৬ সালের গোড়ায় একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করল ওই রকেট। দেশের তাবড় মহাকাশ গবেষকদের চোখে তা বেশ অস্বাভাবিক। আর তাই জোরালো হচ্ছে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব।

দ্বিতীয়ত, পিএসএলভির ব্যর্থতায় মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়া ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে একটি ছিল ‘আর্থ অবজ়ারভেশন স্যাটেলাইট-এন১’ (ইওএস-এন১), যার নির্মাণকারী সংস্থা হল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন)। মূলত চিন ও পাকিস্তানের মতো শত্রু দেশগুলির হাঁড়ির খবর জোগাড় করতে সংশ্লিষ্ট উপগ্রহটিকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হচ্ছিল। সামরিক বিজ্ঞানীরা এর নাম রাখেন ‘অন্বেষা’, যার শতাধিক রং চিহ্নিত করার ক্ষমতা ছিল।

Post a Comment

Previous Post Next Post