৩২ হাজার ভুয়ো পাঠ্যবই উদ্ধার, নকল চক্রের পর্দাফাঁস


এনসিইআরটি (ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) ও দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের একটি ছাপাখানা থেকে প্রায় ৩২ হাজার ভুয়ো এনসিইআরটি টেক্সটবুক বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে বড়সড় পাইরেটেড বই চক্রের হদিস মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাজ়িয়াবাদের লোনি এলাকার জাওলি গ্রামে একটি প্রিন্টিং ইউনিটে হানা দেয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সেখানে বিভিন্ন ক্লাস ও বিষয়ের জন্য ছাপা প্রায় ৩২ হাজার নকল এনসিইআরটি বই পাওয়া যায়। পাশাপাশি দুটি প্রিন্টিং মেশিন, অ্যালুমিনিয়াম প্লেট, কাগজের রোল ও ছাপার কালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখানে যে বড় পরিসরে বেআইনি ছাপাখানার কাজ চলছিল তা এ সবের উপস্থিতিতেই স্পষ্ট হয়েছে।আগের একটি মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর সেই মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ অনুযায়ী দায়ের হয়েছিল।

অভিযানের সময় এনসিইআরটি-র পাবলিকেশন ডিভিশনের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কোন কোন বই নকল তা চিহ্নিত করতে পুলিশকে সাহায্য করেন। এনসিইআরটি জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া তাদের পাঠ্যবই ছাপা, বিক্রি বা বিতরণ করা আইনত অপরাধ। সংস্থার মতে, এই ধরনের বেআইনি ছাপাখানা শুধু কপিরাইট আইন ভাঙে না, ছাত্রছাত্রীদেরও ক্ষতি করে। কারণ নকল বইয়ে অনেক সময় ভুল তথ্য থাকে এবং কাগজ ও ছাপার মানও খারাপ হয়। তাই অভিভাবক ও ছাত্রদের শুধু অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকেই বই কেনার পরামর্শ দিয়েছে এনসিইআরটি।

Post a Comment

Previous Post Next Post