'ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ, পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা', ইউনূসের দেশে চরমে হিন্দু নির্যাতন


বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার আবহে আরও একটি ভয়াবহ ঘটনার সামনে এসেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার পর জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতরভাবে দগ্ধ অবস্থায় খোকন দাস বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন আমার স্বামীকে এত নৃশংসভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হল, আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।” তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

সীমা দাসের দাবি, “আমরা হিন্দু। আমরা শুধু শান্তিতে থাকতে চাই। আক্রমণকারীরা মুসলিম ছিল এবং পুলিশ তাদের ধরার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় খোকন দাস দুজন হামলাকারীকে চিনতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই তারা তার মাথা ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, খোকন দাস তাঁর গ্রামে ওষুধ ও মোবাইলের ব্যবসা করতেন। বুধবার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর উপর এই হামলা হয়। আগুন লাগার পর তিনি কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন, যার ফলে প্রাণে বেঁচে যান। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে তাঁকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে ঢাকার একটি বড় হাসপাতালে রেফার করা হয়।

এই ঘটনায় খোকন দাসের পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে। সীমা দাস ও খোকন দাসের তিনটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের কথায় খোকনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল করতে অন্তত ছয় ইউনিট রক্তের প্রয়োজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছোট ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সীমা দাস।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা হিংসা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। ভারতসহ একাধিক দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “ক্রমাগত সহিংসতা” নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার কথা বলেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Post a Comment

Previous Post Next Post