দার্জিলিং মেলে এসি কামরায় ডাকাতি! বর্ধমান স্টেশনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন যাত্রীরা, নিরাপত্তা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন


দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন উঠল। শনিবার ভোরে ডাউন দার্জিলিং মেলের সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্ধমানের কাছে ট্রেনটি চলাকালীন ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। চলন্ত ট্রেনের বি-১ নম্বর এসি কোচে এক যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় এক দুষ্কৃতী।

জানা গিয়েছে, হাওড়ার ডোমজুরের বাসিন্দা প্রশান্তের নেতৃত্বে ১৯ জনের একটি পর্যটক দল নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে ফিরছিল। ওই বগির ২০ নম্বর সিটে বসে থাকা শ্যামলী সাহার হাত থেকে হঠাৎ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এক দুর্বৃত্ত। সঙ্গে সঙ্গে সে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। অন্যান্য যাত্রীরা “চোর, চোর” বলে চিৎকার করে তাকে ধরার চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দুষ্কৃতী গা ঢাকা দেয়।

শ্যামলী সাহার স্বামী গৌতম সাহা জানান, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ, একটি দামি মোবাইল ফোন, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড ছিল। আকস্মিক এই ঘটনায় গোটা পরিবারই হতবাক হয়ে পড়েন। যাত্রীদের বক্তব্য, এসি কোচে এমন ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং উদ্বেগজনক। 

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, এসি বগিতে কোনও নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত ছিলেন না এবং অবাঞ্ছিত দর্শনার্থী ও হকারদের অবাধ যাতায়াত ছিল। যাত্রীদের আরও দাবি, রাতের বেলায় কোচের দরজা খোলা রেখে চরম গাফিলতি করেছেন সংশ্লিষ্ট অ্যাটেনডেন্ট। ঘটনার কথা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ট্যাগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন যাত্রীরা।

শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছানোর পরও রেলওয়ে পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে শিয়ালদহ জিআরপিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার জেরে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক ভাড়া বাড়লেও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে। এসি কোচেও নিরাপদে যাত্রা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post