টাকার জোগাড়, নাকি ফের আর্জি সেই শীর্ষ কোর্টে


রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ–র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বাকি ৭৫ শতাংশ টাকাও কোন পথে মেটানো হবে, তা শীর্ষ আদালতের তৈরি করে দেওয়া কমিটি খতিয়ে দেখে ৩১ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। কিন্তু বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানোর জন্য প্রায় ১০,৪০০ কোটি টাকাই কী ভাবে জোগাড় করা যাবে, তা নিয়ে চিন্তায় নবান্ন।

টাকার সংস্থানের পাশাপাশি রায় খতিয়ে দেখে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি আইনজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছে। তারা জানার চেষ্টা করছে, আবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই রায় পুনর্বিবেচনার কোনও সুযোগ আছে কি না। রিভিউ পিটিশন বা কিউরেটিভ পিটিশন করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

নবান্নর কর্তাদের কথায়, সামনে রাজ্য বিধানসভা ভোট। সেখানেও একটা বড় অঙ্কের খরচ রয়েছে। তার মধ্যে রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ ডিএ এবং বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য খরচ বেড়েছে ২২,৭০০ কোটি টাকা। যা ১ এপ্রিল থেকে লাগু হবে। তা হলে কি বকেয়া ডিএ মেটাতে নতুন করে ঋণ নিতে হবে অথবা প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ রেখে মেটাতে হবে? এ নিয়েও ধন্দে রাজ্য সরকার।

এত পরিমাণ ডিএ বকেয়া হলো কী ভাবে? সরকারি কর্মচারীদের বক্তব্য, কোনও পে কমিশনের আওতায় ১২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া সম্পূর্ণ হলে পরবর্তী পে কমিশনে বেতন কাঠামো চালু হয়। তখন মূল বেতনের সঙ্গে ওই ১২৫ শতাংশ ডিএ–কে যুক্ত করে মূল বেতন (বেসিক পে) নির্ধারিত হয়। রাজ্য সরকার ২০২১–এ ষষ্ঠ পে বা বেতন কমিশন অনুযায়ী তাদের কর্মীদের বেতন দেওয়া শুরু করে। তত দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশন চালু হয়ে গিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post