বাংলাদেশে ‘হোয়াইট’ মডিউল চায় জৈশ–লস্কর?


বাংলাদেশে ‘হোয়াইট কলার টেররিজ়ম’-এর হাব তৈরি করতে একযোগে মাঠে নেমেছে লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদ? গোয়েন্দাদের সন্দেহ তেমনই। সূত্রের খবর, এ কাজে গতি এসেছে ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়ার পরে।

দিল্লি বিস্ফোরণের পরেই নজর গিয়েছিল বাংলাদেশের দিকে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতকে টার্গেট করে বাংলাদেশে ‘হোয়াইট কলার টেররিজ়ম’-এর ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার কাজে গতি এনেছে জৈশ। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে রিক্রুটমেন্টে। জৈশ এ জন্য তৈরি করেছে ‘মোজাহির রেজিমেন্ট’। সূত্রের খবর, করাচি থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে এই রেজিমেন্টের বেশ কয়েক জন সদস্য ইতিমধ্যেই ঢাকা গিয়েছেন। সংখ্যাটা প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই। এবং ঝাড়াই-বাছাই করে জৈশের লোকেদের বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার কাজটি করেছে লস্কর।

দীর্ঘ ১৪ বছর পরে গত ৩০ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি দু’টি ফ্লাইট (বিজি ৩৪২) করাচি থেকে সরাসরি ঢাকা গিয়েছে। প্রথমটিতে ছিলেন ১১৩ জন এবং দ্বিতীয়টিতে ছিলেন প্রায় ১৪০ জন যাত্রী। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই দু’টি ফ্লাইটের প্যাসেঞ্জার প্রোফাইল বেশ নজরকাড়া। অধিকাংশ যাত্রীই হয় পড়ুয়া, নয়তো আইটি প্রফেশনাল। শুধু তা-ই নয়, ৬০ জনেরও বেশি এমন যাত্রী (পড়ুয়া এবং পেশাদার দুই-ই) রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে যাওয়ার ঢল নামল, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ‘মোজাহির রেজিমেন্ট’-এর সক্রিয়তা গোয়েন্দাদের আতশকাচের নীচে আসে।

এখানেই রয়েছে একটি চমক! ইতিমধ্যে গোয়েন্দারা জেনেছেন, করাচি-ঢাকা প্রথম ফ্লাইটেই লস্কর-ই-তৈবার চার কম্যান্ডার ঢাকায় গিয়েছেন। রসুল মহম্মদ, শাহ মুকাম্মিল, ইব্রাহিম এবং কালাম নূর — এই চারটি নাম এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। তালিকায় রসুল মহম্মদ এবং শাহ মুকাম্মিল, এই দু’টি নাম রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কারণ লস্করের হয়ে ‘হোয়াইট কলার’ রিক্রুটমেন্টের মূল কাজটি করেন এই দু’জন। এঁদের সঙ্গে এবং পিছু পিছু বাকিদের যাওয়ার নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ছক দেখতে পাচ্ছেন গোয়েন্দারা — বাংলাদেশে একটি রীতিমতো সুসংহত ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ তৈরি করা। ঠিক যে ভাবে ভারতে ‘ডক্টর্স মডিউল’ তৈরির কাজ শুরু করেছিল জৈশ। দিল্লি বিস্ফোরণের পরে যা ফাঁস হয়ে যায়। ধরা পড়েন মডিউলের মাথারা।

Post a Comment

Previous Post Next Post