মেঘালয়ের কয়লাখনিতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ, মুহূর্তে ঝলসে গেলেন ১৮ শ্রমিক, আটকে অনেকে, উদ্বেগে মোদী


কয়লাখনিতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ, ঝলসে গেলেন কমপক্ষে ১৮ শ্রমিক। বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা।মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার তাশখাইত এলাকায় একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে খনির ভেতরে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী। খনি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে। সরকার ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

খবর অনুযায়ী, তাশখাইত কয়লা খনিতে হঠাৎ করেই এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় খনির ভেতরে থাকা শ্রমিকরা পালানোর কোনও সুযোগ পাননি এবং অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মেঘালয় পুলিশ, প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ করে। আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে উদ্ধার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হলেও সকালে ফের অভিযান শুরু হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তিনি এক্স পোস্টে লিখেছেন, “কয়লা খনিতে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, সেই সব পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।”মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এই শোকের পরিবেশে রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত সকলের পাশে রয়েছে।”এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের নিকটাত্মীয়ের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। মেঘালয় পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে বিস্ফোরণের সময় খনির মধ্যে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে আরও বহু শ্রমিক আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিক বা কারিগরি ত্রুটিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

Post a Comment

Previous Post Next Post