রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ মেটানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘যুক্তিযুক্ত’ বলে বর্ণনা করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের এই নির্দেশকে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকারের জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি। তবে এই জয় উদ্যাপনের মাঝেই রাজ্য সরকারের ‘অমানবিক’ মনোভাব এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
“অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল”
সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, "বেটার লেট দ্যান নেভার (Better late than never)। দেরি হলেও কর্মচারীরা তাদের অধিকার পেল। ডিএ কোনো দয়া নয়, এটা তাঁদের ন্যায্য পাওনা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কর্মচারীদের এই অধিকারকে বারবার অস্বীকার করেছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ না দিয়ে বরং সেই সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে বড় বড় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে তাঁদের বঞ্চিত করার জন্য। অধীরের কথায়, "সরকারি কর্মচারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে সরকারি টাকা খরচ করে সুপ্রিম কোর্টে মোকাবিলা করা একটি চরম অমানবিক কাজ।"
সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্য রাখার বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, সেখানে কোনো আইনি লড়াইয়ের চেয়ে ‘নাটক’ বেশি হয়েছে। অধীর বলেন, "সুপ্রিম কোর্টে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আইনজীবী নিয়ে গিয়েও নিজে বলতে গেলেন। সেখানে কোনো আইনি কথা নেই, ছিল শুধু স্ট্রিট কর্নারের মতো বক্তৃতা। লোককে দেখাতে চাইলেন আমি একাই সব পারি।"