আইপিএল নিলামে কেউ কেনেনি, পাকিস্তানের লিগে দল পেলেন বাবরের সঙ্গে মাঠে ঝগড়ায় জড়ানো বিদেশি


বিশ্বক্রিকেটে স্টিভ স্মিথ বড় নাম হলেও আইপিএলে তেমন নজর কাড়তে পারেননি তিনি। যে কয়েক বছর খেলেছেন, খুব আহামরি পারফরম্যান্স নেই তাঁর। আইপিএলের এ বারের নিলামে নাম লেখালেও কোনও দল আগ্রহ দেখায়নি। অবিক্রিত ছিলেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকেও ব্রাত্য তিনি। সেই অসি ব্যাটারকে এ বার দলে নিয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের দল সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ়। আইপিএলের বাতিল বিদেশিকে নিয়ে উল্লসিত তারা।

এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগে ছয় দল খেলত। এ বার থেকে দু’টি দল বাড়ানো হয়েছে। তার মধ্যেই রয়েছে সিয়ালকোট। পাকিস্তান সুপার লিগে নিলাম হয় না। ড্রাফ্ট প্রক্রিয়ায় ক্রিকেটার নেওয়া হয়। তার আগে সরাসরি স্মিথকে কিনেছে সিয়ালকোট। দলের কোচ অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক টিম পেইন। স্মিথকে নেওয়ার নেপথ্যে তিনিই রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু স্মিথ কয়েক দিন আগেও পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘খলনায়ক’ ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের অধিনায়ক তিনি। সেই দলেই রয়েছেন বাবর আজ়ম। এ বারের প্রতিযোগিতা চলাকালীন একটি ম্যাচে বাবরের সঙ্গে মাঠেই ঝগড়া হয় তাঁর। পুরো প্রতিযোগিতা খেলেননি তিনি। ফাইনালের আগেই পাকিস্তান জাতীয় দলের শিবিরে ডেকে নেওয়া হয় তাঁকে। বিগ ব্যাশে ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ২০২ রান করেন তিনি। অনেকে মনে করছেন, অসম্মান থেকে বাঁচাতেই বাবরকে ফিরিয়ে নেয় পাকিস্তান। সেই স্মিথই এ বার পাকিস্তান সুপার লিগে।

বিগ ব্যাশ লিগের ১১ এবং ১২তম ওভারে থাকে ‘পাওয়ার সার্জ’। এই সময় ৩০ গজের বৃত্তের বাইরে দু’জনের বেশি ফিল্ডার রাখা যায় না। রান তুলে নেওয়ার সেরা সুযোগ পাওয়া যায়। অথচ সিডনি থান্ডার্সের বিরুদ্ধে ১১তম ওভারে রান করতে পারছিলেন না বাবর। কয়েকটি ডট বলও (যে বলে রান হয় না) খেলেন। অথচ ১১তম ওভারের শেষ বলে খুচরো রান নিতে চান। ২২ গজে অন্য প্রান্তে থাকা স্মিথ রাজি হননি। বাবরের মন্থর ব্যাটিংয়ের উপর আস্থা রাখতে পারেননি তিনি। ১ রান নেওয়ার সহজ সুযোগ থাকলেও বাবরের ডাকে সাড়া দেননি। সম্ভবত ১২তম ওভারে নিজে ব্যাট করে দলের রান বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন স্মিথ। রান নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে রেগে যান বাবর। মাঠেই বিরক্তি প্রকাশ করেন।

১২তম ওভারে চারটি ছক্কা মারেন স্মিথ। রায়ান হ্যাডলির করা ওই ওভারে মোট ৩২ রান তোলেন স্মিথ। ৪২ বলে পূর্ণ করেন শতরান। এর পরের ওভারে ক্রিস গ্রিনের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান বাবর। ৩৯ বলে ৪৭ রান করে আউট হয়ে আরও রেগে যান। সাজঘরে ফেরার সময়ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন বাউন্ডারি লাইনের দড়িতে। পাক ব্যাটারের এই আচরণের ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। বিগ ব্যাশের সরকারি ওয়েবসাইটেও বাবরের ওই ছবি দিয়ে লেখা হয়, ‘‘বাবর একদম খুশি নয়। সিডনির ম্যাচের মধ্যে নাটক। নিজে পাওয়ার সার্জের সময় ব্যাট করার জন্য বাবরকে রান নিতে দেয়নি স্টিভ স্মিথ!’ ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ মনে করেন, বিগ ব্যাশ লিগ কর্তৃপক্ষও আসলে বাবরকে ব্যঙ্গই করেছেন।

পরে অবশ্য স্মিথ জানান যে, তাঁর সঙ্গে বাবরের কোনও সমস্যা হয়নি। তাতে অবশ্য বিতর্ক থামেনি। এখন দেখার পাকিস্তান সুপার লিগে দুই ক্রিকেটার যখন মুখোমুখি হবেন, তখন কোনও সমস্যা হয় কি না।

Post a Comment

Previous Post Next Post