এবার বসিরহাটে তৃণমূলের ৭ আসনের মধ্যে ৬ আসনেই প্রার্থী বদল করেছে দল। স্বাভাবিক কারণেই ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে সকলেই। আর তার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। দলের বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, যড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তাঁর সফা কথা, ২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে যাঁরা দলের বিরোধিতা করেছে তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই সব বিষয় নিয়ে দলের উপরতলার বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দেগেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তীব্র অভিমানের সঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’
এদিকে এদিনই আবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সন্দেশখালিতে আসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগেই আচমকা আব্দুর রহিমের দল ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে বসিরহাটের রাজনৈতিক আঙিনায় জোরদার চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার তাঁর পরিবর্তে দলের হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকেও চিঠি লিখে নিজের দলত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন আব্দুর রহিম সেই চিঠিও পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রসঙ্গত এবার বসিরহাটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ছিল বড় চমক। ৭ আসনে ৬টিতেই বাদ পড়েছেন বর্তমান বিধায়করা। এবার নতুন পরিস্থিতিতে নতুন প্রার্থীরা কতটা লড়াই দিতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘাড়ের সামনে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি।