বিরাট বড় একটা কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যে যে সম্ভব না তা নির্বাচন কমিশন বার বার প্রমাণ করেছে। জেদ ধরে সব কাজ হয় না। সোমবার নতুন ভোটার লিস্ট দেখে প্রথমে কিছু বোঝা না গেলেও মঙ্গলবার বিস্তারিত জানা যায়। তাতেই চক্ষুচড়ক গাছ! তৃণমূলের, দাবি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পাশে নাকি দেখিয়েছে বিচারাধীন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম দেখিয়েছে ডিলিটেড অর্থাৎ মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও কমিশনের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘণ্টা দুয়েক ভুল দেখিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে সমস্যা মিটে গিয়েছে। ২৩ মার্চ গভীর রাতে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। অথচ, সেই তালিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পরও বহু জায়গার তথ্য মিলছিল না। কোথাও কোথাও তথ্য দেখা গেলেও ডাউনলোড করা যাচ্ছিল না। এমন নানাবিধ সমস্যার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে আচমকা সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গলের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাজ্যের সমস্ত ভোটার বিচারাধীন। নিজের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলে বৈধ ভোটারদেরও দেখানো হয় ‘বিচারাধীন।’
সেই তালিকায় ছিলেন খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নামের পাশেও দেখায় বিচারাধীন। শুভেন্দুর ক্ষেত্রে দেখায় ডিলিটেড। স্বাভাবিকভাবেই এই তালিকা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। চূড়ান্ত তালিকায় ‘পাশ’ মার্ক পাওয়া ভোটাররা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে সরব হয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের তরফে সোশাল মিডিয়ায় বলা হয়, ‘আপনাকে হয়তো শুনানির জন্য ডাকা হয়নি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হয়তো আপনার নামটা ছিল, আপনি হয়তো ম্যাপড ভোটার কিংবা আপনার কেস সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে মিটে গেছে—তা সত্ত্বেও এখন আপনি নিজেকে UNDER ADJUDICATION হিসেবে দেখতে পাবেন। পুরো বাংলাকে কমিশনের পোর্টালে বিবেচনাধীন ঘোষণা করে দিয়েছে। বাংলার প্রতিটি ভোটার এখন “UNDER ADJUDICATION”। ঘণ্টা দুয়েক পর মিটেছে সমস্যা। ইতিমধ্যেই এবিষয়ে মুখ খুলেছে কমিশন। জানানো হয়েছে, রাত ১২ টা নাগাদ মিটেছে সমস্যা।