অভিনেতা, গায়ক কিংবা তারকা ক্রিকেটারদের বাজি রেখে ভোটমহারণে বাজিমাত করেছে জোড়াফুল শিবির। অতঃপর ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটেও তারকাপ্রার্থীদের তালিকার দিকেই নজর ছিল। প্রথমটায় ইমন চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী কিংবা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের নাম শোনা গেলেও এবার তালিকায় ঠাঁই পাননি কোনও নতুন সেলেব মুখ। বরং পুরনো তারকা সৈনিকেই ভরসা রাখলেন দলনেত্রী। বিধায়ক হন রাজ চক্রবর্তী। এবারও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের যোদ্ধা পরিচালক। রাজ বলছেন, "আবার নতুন লড়াই। ৫ বছর নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আমার এলাকার মানুষেরা এবারও আমাকে সমর্থন করবেন। পাশে থাকবেন।" প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবতে নারাজ রাজ। বললেন, "কাজের নীরিখেই লড়াই হবে। বারাকপুরে যতটা কাজের প্রয়োজন ছিল, তার ৭০ শতাংশ করতে পেরেছি। কোনও বাকবিতণ্ডার মধ্যে যেতে চাই না।"
বরানগরে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের ভোটেও সেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী তিনি। সায়ন্তিকা বলছেন, "আমি ৫ বছর পাইনি। এই দেড় বছরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটা সম্ভব কাজের চেষ্টা করেছি। বরানগরের প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছেছি। জনসংযোগের মাধ্যমেই সমস্যার কথা জেনেছি। সব সমাধান হয়তো একদিনে হবে না কিন্তু চেষ্টা চালাচ্ছি। নিশ্চিত আগামী ৫ বছরও আমার এলাকার মানুষেরা আমার উপর ভরসা রাখবেন।" অন্যদিকে ছাব্বিশের ভোটে করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন সোহম চক্রবর্তী। নামঘোষণা হতেই বললেন, প্রচণ্ড টেনশনে ছিলাম। সর্বপরি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে চাই আমাদের জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উনি আমার উপর আরেকবার আস্থা রেখেছেন। আমাদের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ। তিনিও আস্থা রেখেছন। একুশের বিধানসভা ভোটে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন অদিতি মুন্সী। এবারও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের 'বাজি' তিনি। নামঘোষণা হওয়ার পরই জানালেন, "আমার উপর ভরসা রাখার জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আরও বেশি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই আমার এলাকার মানুষদের যাঁরা এই পাঁচটা বছরের প্রতিটা সময়ে আমার পাশে থেকেছেন। আমি নতুন বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও সাথে থেকেছেন।" অন্যদিকে গায়ক ইন্দ্রনীল সেন পরপর দু'বার চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন। এবারও সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে জোড়াফুলের বাজি তিনি। রবিবার বিকেলেই এলাকার বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এক পরিষেবা প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন তিনি। যেখানে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হুইলচেয়ার, ট্রাই-সাইকেল, কানে শোনার যন্ত্র এবং ওয়াকিং স্টিক। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হ্যাটট্রিকের দিকে চোখ ইন্দ্রনীলের।