এবার মনেহয় গ্যাসের সংকট মিটতে চলেছে। অন্তত কিছুটা হলেও সমস্যা এবার মিটবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিরিখে ভারতের অবস্থান যে বেশ ভালো জায়গায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই ভারতের বন্ধু দেশ ইরান এবার ভারতের জন্য খুলে দিল হরমুজ প্রণালী।
ভারতের পাশাপাশি আরও চার দেশকেও তারা ছাড় দিয়েছে। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলি নিরাপদে হরমুজ পেরতে পারবে। সম্প্রতি ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষৎকারে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ নেই। ইরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিরাপদে হরমুজ পেরনোর জন্য বহু জাহাজ মালিক এবং অনেক দেশই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বন্ধু দেশগুলিকেই আপাতত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা দেখেছেন চিন, রাশিয়া, জাহাজ, পাকিস্তান, ভারতের কয়েকটি জাহাজ হরমুজ ইতিমধ্যেই হরমুজ পেরিয়েছে। এমনকী বাংলাদেশেরও একটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পার হয়েছে। এই দেশগুলি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। সমন্বয় করেছে। যুদ্ধের পরেও তাদের জাহাদ নিরাপদে হরমুজে চলাচল করতে পারবে।”
আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না। হরমুজ তাদের জন্য বিপদ বলেও জানিয়েছেন তিনি। আরাঘচি আরও বলেন, “ইরান যখন হরমুজে আংশিক অবরোধের ঘোষণা করেছিল, তখন বিশ্বের অনেকেই তা বিশ্বাস করেনি। এটিকে মিথ্যা ভেবেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইরান হরমুজের উপর নিজের শক্তি এবং কর্তৃত্ব প্রদর্শন করেছে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দেয় ইরান। কিন্তু এবার তেহরান সরাসরি জানিয়ে দিল যে, হরমুজ ভারতের জন্য মুক্ত।