'অভয়া', কাণ্ডে উত্তাল হয়েছিল বাংলা। প্রথম থেকে আড়ালে থেকে মেয়ের মৃত্যুর উপযুক্ত তদন্ত চেয়ে এসেছেন অভয়ার বাবা ও মা। প্রবল আন্দোলনে ফেটে পড়েছিলেন তারা। কিন্তু এখনও তারা প্রকৃত বিচার পায় নি বলেই তারা মনে করে। তারা মনে করেন আসল অপরাধীকে আড়াল করা হয়েছে। আরজি করের নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, 'ভোটে দাঁড়াতে চাই। তাই BJP-তে যোগ দিচ্ছি।' নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু এই আরজি কর। বাংলা তথা গোটা দেশ, এমনকী বিশ্বের নানা প্রান্তকে নাড়িয়ে দেওয়া এই ধর্ষণ ও খুনের পর পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তরুণীর মা-বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার চেয়েছেন সকলেই। রাজপথ দখল, দিনের পর দিন বিচার চেয়ে অনশন। তবে রাজনীতিও কম হয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে জল্পনা জোরাল হয়েছিল, আরজি করের নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়াবেন। সেই জল্পনাতেই এবার সিলমোহর পড়ল।
কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও বড় কথা রজনীতির ময়দানে নিজেই নামতে চাইছেন অভিয়ার মা। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে আরজি করের নির্যাতিতার মা বলেন, 'গতকাল আমি নিজেই ফোন করে প্রস্তাব দিয়েছি। BJP-র হয়ে ভোটে দাঁড়াতে চাই বলেছি। কারণ আমার মনে হয়েছে, নারীদের নিরাপত্তা এবং নারী সুরক্ষা এখানে নেই। আর পশ্চিমবঙ্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। সেই তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলতেই আমি BJP-তে যোগ দিচ্ছি। কেন BJP, বামদের হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নয় কেন? নির্যাতিতার মা বলেন, 'বামপন্থীরা ভোট কেটে তৃণমূলকে জেতার সুযোগ করে দিয়েছে। সেটা বরানগর হোক বা পানিহাটি। CPIM-এর সদস্য তন্ময় ভট্টাচার্য নিজেই এ কথা বলেছেন। সজল ঘোষ হেরেছেন একমাত্র ওদের ভোট কাটার জন্যই। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে আমার মেয়ের মৃত্যুকে কাজে লাগিয়েছিল ওরা। আমার মেয়েকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে এসেছিল।' এখন দেখার তার সঙ্গে বিজেপির কোন বোঝাপড়া হয়। সম্ভবত পানিহাটি থেকেই তিনি দাঁড়াতে চলেছেন বিজেপির হয়ে।