এবার হয়তো আস্তে আস্তে ভারতে তেলের সমস্যা কিছুটা মিটবে। তবে এই পদ্ধতি চালিয়ে যেতে হবে। এহেন পরিস্থিতিতে যখন হরমুজ প্রণালী চালু করতে ন্যাটো সদস্যভূক্ত ইউরোপের দেশগুলিকে সাহায্যের জন্য আর্জি জানাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন ভারত সেই হরমুজ দিয়েই LPG সিলিন্ডার নিয়ে আসছে। ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ভাল সম্পর্ক। ইরান হরমুজ বন্ধ রাখলেও, ভারতের জন্য খুলে রেখেছে। ১৫ মার্চ ভারতের তেরঙা পাতাকা লাগানো ট্যাঙ্কার অশোধিত তেল নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে। এবার আজ অর্থাত্ সোমবার LPG বোঝাই ট্যাঙ্কার আসছে ভারতে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪ মার্চ যখন ভারতীয় জাহাজ অশোধিত তেল লোড করছিল, তখনই তেল টার্মিনালে হামলা হয়। তা সত্ত্বেও, রবিবার সকালে ৮০ হাজার ৮০০ টন অশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ হয়ে নিরাপদে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে জাহাজ। শনিবারও, দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার , 'শিবালিক' এবং 'নন্দাদেবী হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে অতিক্রম করেছে। দুটি জাহাজই ভারতে প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি বহন করছে। 'শিবালিক' ১৬ মার্চ গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, নন্দাদেবী জাহাজটি ১৭ মার্চ কান্দলা বন্দরে পৌঁছবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীর পশ্চিম অংশে আটকে থাকা ২৪টি জাহাজের মধ্যে দুটি জাহাজই ছিল। ভারত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ, প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫০ শতাংশ এবং এলপিজি চাহিদার ৬০ শতাংশ আমদানি করে। ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলের হামলার আগে, ভারতের মোট তেল আমদানির অর্ধেক এবং এলপিজি আমদানির ৮৫-৯০ শতাংশ আসত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি থেকে। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে এখনও ২২টি জাহাজ আটকে রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'আমাদের বেশ কিছু জাহাজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে। দু’টি জাহাজ ইতিমধ্যে ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে। এখন সেখানে ২২টি জাহাজ রয়েছে।