হাওড়া, শিয়ালদহ–সহ দেশের ১৮৭৪ স্টেশনে নজরে AI



যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং রেলপথের সুরক্ষা বাড়াতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বাড়াচ্ছে রেল। সেই সূত্রে হাওড়া ও শিয়ালদহ–সহ দেশের ১৮৭৪টি স্টেশনে প্রাথমিক ভাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় যান্ত্রিক চোখ ‘রাউন্ড দ্য ক্লক’ নজরদারি চালাবে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নজরদারির কাজ শুরু হবে হাওড়া ডিভিশনের ১৪টি, শিয়ালদহ ডিভিশনের ৪৭টি এবং মালদা ডিভিশ‍নের দু’টি স্টেশন দিয়ে। বাংলার ব্যস্ত স্টেশনগুলির মধ্যে হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়গপুর এবং বর্ধমানকে প্রথমেই এমন নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি স্টেশনে আইপি–নির্ভর ভিডিয়ো সার্ভেল্যান্স সিস্টেম (ভিএসএস) স্থাপন করা হবে। এর জন্যে রেলের নির্ভয়া ফান্ড থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। হাই ডেফিনেশন ইমেজিং এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন–এর ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্টেশন এবং রেলের টানেলেও। এর মাধ্যমে টানেলের ভিতরে চলন্ত ট্রেনের ছবি যেমন সরাসরি পৌঁছে যাবে কন্ট্রোল রুমে, তেমনই সেখানে ট্রেন প্রবেশের আগে কোনও সমস্যা দেখা দিলে সেই ছবিও আগেভাগেই ধরা পড়বে কন্ট্রোল রুমের মনিটরে৷ এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি টানেলের ভিতরে যাতে রেডিয়ো যোগাযোগ বহাল থাকে, সেটাও নিশ্চিত করা হবে এআই প্রযুক্তি প্রয়োগে৷

টানেলের ভিতরে ‘ডেডিকেটেড টানেল কমিউনিকেশন সিস্টেম’ও বসানো হবে। কোনও ট্রেনে ওঠার জন্যে ভিড়ের বহর মাত্রাছাড়া হলে সেটাও সহজেই এই প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বৈধ যাত্রী এবং রেল অনুমোদিত বৈধ ভেন্ডার, রেলকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া স্টেশনে আর কাউকে অকারণে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হবে না বলে দাবি রেল মন্ত্রকের। এর ফলে স্টেশনে যে কোনও ধরনের গোলমাল, নাশকতার আশঙ্কাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, রেলের খোলনলচে বদলে ফেলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ বার সেই কাজের ধরন সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post