নদীয়ার করিমপুরে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সোহম চক্রবর্তীকে বিশেষ দেখা যায়নি। তিনি কি রাজনীতি ছাড়ছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সোহম বলেন, "রাজনীতি ছাড়ব না৷ এটুকু বলতে পারি৷ বাকিটা সময় বলবে৷"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায় থাকার বিষয় সোহম নিশ্চিত ভাবে কিছুই জানাননি কারণ তিনি সেই সময় নাও থাকতে পারেন কলকাতায়৷ এবং মানসিক দিক থেকেও নিজের জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানান সোহম৷
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সোহমকে দেখা যাচ্ছে না৷ কেন? সোহম বলেন, এখন নিজেকে সময় দিচ্ছি৷ নতুন ভাবনাচিন্তা চলছে৷ রাজনীতির জন্য অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল৷ সেটা আমার কেরিয়ারে তো কিছুটা হলেও ক্ষতি৷ আর ভোটের প্রচারে দেড় মাস বাড়ির বাইরে ছিলাম৷ বাবার শরীর খারাপ, এই মুহূর্তে পরিবাররকে সময় দিতে চাইছি৷"
কিন্তু ভীত কেন সোহম? অভিনেতা বলেন, "২০১৮ সালে একটি ছবি করার কথা হয়েছিল৷ তৃণা ফিল্মস-এর কর্ণধার তরুণ দাসের সঙ্গে ফোনে কথা বা দেখা হয়নি বলে জানান সোহম৷ ইপি অমিতাভ মুখার্জি এবং পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী এসেছিলেন গল্পটি বলেন৷ আমার পছন্দ হওয়ায় আমি কাজ করব জানাই এবং মহুয়া তখন প্রযোজকের তরফে ১৫ লক্ষ টাকার একটা চেক আমাকে দিয়েছিলেন৷ কিন্তু ছবিটা আর হয়নি৷ এর জন্য আমাকে অন্য ছবি বাতিল করতে হয়েছে৷"
সোহম আরও বলেন,"মহুয়া কিছুদিন পর জানায়, মহুয়া এই ছবি আর পরিচালনা করবেন না৷ হঠাৎ দু'দিন আগে প্রযোজক হুমকি দেন যে তাঁকে ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে৷ সোহম প্রযোজককে তাঁর বাড়িতে ডেকে পাঠান৷ প্রযোজক আসেন এবং বলেন সোহম ডেট না দেওয়ার জন্য ছবিটা করা যায়নি৷"
সোহমের বক্তব্য, সোহম ২০২১ থেকে রাজনীতির কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ কিন্তু প্রযোজকের সঙ্গে এই সমস্যা ২০১৮ এর৷ সোহম বলেন, আমি এতবড় স্টার নই যে ২ বছর ধরে আমার ডেট থাকবে না৷ কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়৷ আপনি ছবি করলে আমি কাল থেকেই কাজ শুরু করব৷ আমি মহুয়া চক্রবর্তীকেও ফোন করি। তিনিও বলেন যে আমার জন্য সমস্যা হয়নি৷ তারপরেই প্রযোজক হুমকি দেন গুলি করে উড়িয়ে দেবেন৷ এবং আরও নানা অশালীন কথা বলেন
এরপর উনি বেরিয়ে যান৷ অন্য নম্বর থেকে কিছুক্ষণ পরে ফোন করে বলেন, লড়াইটা শুরু করে ঠিক করলেন? এরপর প্রযোজক রূপা গাঙ্গুলি আর শুভেন্দু অধিকারীর নামও করেন৷"
সোহম বলেন," এই মুহূর্তে আমি ভীত কারণ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি সোহমের নাম করে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন প্রযোজক৷"
যেহেতু প্রযোজক রূপা গাঙ্গুলির নাম করেছেন তাই সোহম নিজেই রূপা গাঙ্গুলিকে ফোন করেন৷ রূপা গাঙ্গুলি নথিপত্র চেয়েছেন৷ আশ্বস্ত করেছেন যে এই টাকাটা ফেরত দিতে হবে না৷ আইনি পদক্ষেপ করার কথাও জানান সোহম৷