১৩ বছর পরে আজ সুদীপ্ত সেন শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত বাতাসে আসতে চলেছেন


১৩ বছর পরে আজ সুদীপ্ত সেন শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত বাতাসে আসতে চলেছেন 

  বাংলার আর্থিক কেলেঙ্কারির সূচনা পর্বের অন্যতন নাম ছিল 'সুদীপ্ত সেন'। ১৩ বছর পরে বৃহস্পতিবার তিনি জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি উদয় কুমার এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) জেল থেকে ছাড়া পাবেন তিনি।২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। ১৩ বছর পর সেই এপ্রিলেই জেলমুক্তি ঘটতে চলেছে। কোন কোন শর্তে ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করল? সারদা দুর্নীতি মামলায় সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয় ৩৮৯টি। ৭৭টি মামলা সিবিআইয়ের কাছে যায়। ৩৮৭টি মামলায় আগেই জামিন পেয়েছেন সারদা কর্তা। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা বাকি এই দুটি মামলায় ১৩ বছর ধরে রাজ্য প্রয়োজনীয় নথি দিতে পারেনি। এখানেই ছিল খাটকা, তাহলে কি রাজ্য তার মুক্তি চায় নি। সে যায় হোক অবশেষে ডিভিশন বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেছে।

  ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আবেদনকারীকে (সুদীপ্ত সেন) তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে (যদি না তা ইতিমধ্যে অন্য কোনও সংস্থার হেফাজতে থাকে)। এই আদালতের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। তাঁকে বারাসত থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির কাছে তাঁর স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা জানাতে হবে। আদালত ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগাম না জানিয়ে তিনি তাঁর বসবাসের স্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না। সুদীপ্ত সেনকে মাসে একবার থানায় হাজিরা দিতে হবে। এছাড়াও ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (CIS), অথবা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (MLM) সংস্থার প্রচার, পরিচালনা কিংবা সেগুলির এজেন্ট ও পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনসাধারণের কাছ থেকে কোনও ধরনের আমানত (ডিপোজিট) সংগ্রহ বা গ্রহণ করতে পারবেন না। আবেদনকারী মামলার তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। কাউকে প্রভাবিত করতে পারবেন না কিংবা ভয় দেখাতে পারবেন না। এই সব শর্তের যেকোনও লঙ্ঘনের ফলে তাঁর জামিন অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post