টাকার বিনিময়ে মুসলিমদের ভাবাবেগ বিক্রি! ‘কুলাঙ্গার’ হুমায়ুনকে ‘সমাজচ্যুত’ করার ডাক ফিরহাদের



আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরে (Humayun Kabir) ভাইরাল ভিডিও নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার হুমায়ুনকে রীতিমতো কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাঁর কথায়, এভাবে বিজেপির কাছে টাকা নিয়ে যে মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগের সওদা করছে, সে কুলাঙ্গার, কীট। তাঁকে সমাজচ্যুত করা উচিত।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি বিস্ফোরক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ওই ভিডিও-য় হুমায়ুনকে নিজের মুখেই বলতে শোনা গিয়েছে, যে কোনও মূল্যে তিনি মমতাকে হারাতে চান। সেজন্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ভিডিও-টি কোনও এক বিজেপি নেতার সঙ্গে হুমায়ুনের কথোপকথনের। ওই কথোপকথনে হুমায়ুন (Humayun Kabir) বলছেন, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। আমার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।” আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান বলতে থাকেন, “প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই আমাকে বলা হয়, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা বলতে। মোহন যাদবজির সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে।” হুমায়ুন ইঙ্গিত দিয়েছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর।
ওই ভিডিওতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা গিয়েছে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। শুভেন্দু স্বীকার করে নিয়েছেন কোনওভাবেই বিজেপির পক্ষে ১০০-১২০ আসনের বেশি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মমতার থেকে মুসলিম ভোট সরাতে পারলেই বিজেপি জিতবে। হুমায়ুন বলেন, আমি অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন পাব। আমি মুসলিমদের বোকা বানানোর পরিকল্পনা ছেপে ফেলেছি। সেটার জন্য আমার কিছু টাকার দরকার। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩-৪ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। সব মিলিয়ে হাজার কোটি টাকা দরকার।” আমজনতা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা বলেন, “বাবরি ইস্যুটা তোলার পর মানুষের আবেগ যেভাবে আমার দিকে ঝুঁকেছে তাতে আমি নিশ্চিত ৮০-৯০ আসন পাবই।”
ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসরা একযোগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কোন কোন আধিকারিক এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিজেপির কোন কোন মুখ্যমন্ত্রী এসবের সঙ্গে যুক্ত, তদন্ত হওয়া উচিত। ফিরহাদ হাকিম রীতিমতো চড়া সুরে বলেন, “টাকার বিনিময়ে মুসলমানদের ভাবাবেগ নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলাটা অন্যায়। এটা পাপ। এর পরে ওই কুলাঙ্গার, কীট হুমায়ুনকে একটা ভোটও দেওয়া উচিত নয়।” ফিরহাদের প্রশ্ন, “বাংলার মুসলমানরা কি এতটাই বোকা? আমাদের ইমান আপনি টাকার জন্য বিক্রি করে দিতে পারেন না। এটা পাপ, পাপ, পান। ওই কীটকে একটিও ভোট নয়।”
যদিও হুমায়ুনের দাবি, যে ভিডিও দেখানো হচ্ছে সেটা ভুয়ো। বহিষ্কৃত বিধায়কের অভিযোগ, “ইজরায়েল থেকে মেশিন এনে আমার ফোন ট্যাপ করছে। হোয়াটসঅ্যাপ কলও রেকর্ড করছে।” তাঁর পালটা হুঁশিয়ারি, “ওই ভিডিও আমার প্রমাণ করতে পারলে সব প্রার্থীদের নিয়ে বসে যাব। নাহলে দু’হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করব।”

Post a Comment

Previous Post Next Post