মধ্যরাতে শান্তিকুঞ্জে পৌঁছে বিপুল সম্বর্ধনা গ্রহণ করলেন শুভেন্দু


মধ্যরাতে শান্তিকুঞ্জে পৌঁছে বিপুল সম্বর্ধনা গ্রহণ করলেন শুভেন্দু 

   পাড়ার সেই ছোট ছেলে 'বুবাই'  আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এটা কল্পনা করতেই অবাক হয়ে যাচ্ছে তার গ্রামের মানুষেরা। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য এলাকায় জনসমাগম উপচে পড়বে, তাও স্বাভাবিক। কিন্তু যা চমকপ্রদ, তা হল সন্ধ্যা থেকে কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জে’র সামনে অপেক্ষমান মানুষের ভিড়ের ছবিটা একই রয়ে গেল রাত ২টো পর্যন্ত! শনিবার যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় এসে দাঁড়াল পাড়ার মোড়ে, তখন ঘড়িতে রাত ২টো। সমবেত জনতা তখন ফুল, মালা, মিষ্টিমুখ, স্লোগানে স্বাগত জানান নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। মধ্যরাতে একেবারে উৎসবের আমেজ পাড়ায়। শুভেন্দু নিজেও ভাসলেন আবেগে। এই-ই তো তাঁর আপনঘর, আপনজন। শনিবার সকালে ব্রিগেডে শপথের পর দিনভর নানা কাজ সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শেষবেলায় কালীঘাটে পুজো দিয়ে যখন কলকাতা থেকে কাঁথির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি, তখন ঘড়িতে ১০টা বেজে গিয়েছে। দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে কাঁথি পৌঁছতে পৌঁছতে রাত ২টো। শুভেন্দুর বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’ তো বটেই, পাড়ার মোড়েও তখন বিশাল ভিড় জনতার। সেই ভিড় ঠেলে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঢুকতেই ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। 

  গাড়ি আর বেশি এগোতে পারেনি। বাড়ির কিছুটা আগেই গাড়ির দরজা খুলে গাড়িতে দাঁড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেউ তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন, কেউ বা পুষ্পস্তবক এগিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী কাঁথিতে পা রেখে এভাবেই ভাসলেন সংবর্ধনার আর জনজোয়ারে। সকলের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর জনতার উদ্দেশে হাতজোড় করে বলেন, ‘‘অনেক রাত হয়েছে, এবার আপনারা বাড়ি যান।” ছেলের এত বড় সাফল্যের জন্য এত বছরের অপেক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী ছেলেকে ঘরে স্বাগত জানাতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগেছিলেন বাবা শিশির অধিকারী ও মা গায়ত্রী অধিকারী। ছেলের এই সাফল্যই যেন এই বয়সেও তাঁদের যাবতীয় ক্লান্তি কাটিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে পা রেখে বাবা-মাকে প্রণাম করেন ‘বুবাই’।

Post a Comment

Previous Post Next Post