সুদীপকে উজাড় করে দিয়েছিলেন মমতা কিন্তু সুদীপ বিশ্বাসঘাতকতা করলেন - কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
রবিবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেশ আক্ষেপ ও ক্ষোভের সুরে কুনাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যা করেছেন, তা কেউ ভুলতে পারবে না। কিন্তু সুদীপদা ভুলে গেলেন - বললেন কুনাল। প্রায় ৪ মাস জেল হেফাজতে ছিলেন। সুদীপের সেই খারাপ সময়ে পাশে ছিল দল, পাশে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কাট টু ২০২৬। আজ যখন তৃণমূল ভেঙে খানখান, কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেইসময় কিন্তু সুদীপকে পাশে পেলেন না নেত্রী। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী ব্লকে সুদীপও নাম লেখাচ্ছেন। গতকাল অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। অথচ এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য একটা সময় দল বহু দক্ষ নেতাকে হারিয়েছে। এমনটাই দাবি করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশ্রয়ের জন্যই তাঁকে আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তৃণমূলের শুরু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠদের তালিকায় একেবারে প্রথমেই ছিলেন সুদীপ।
যদিও, মাঝে মমতার সঙ্গে বিরোধও হয়েছিল। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসেও গিয়েছিলেন। আবার পরে তৃণমূলে ফিরে আসেন। দলবদলের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় স্নেহের পাত্র ছিলেন সুদীপ। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব কথা শুনতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করা হলে শুনতেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। বরং সুদীপের বিরোধিতা করে কুণালকেই সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই বহু নেতা দল ছেড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বারবার। এই নিয়ে কম বিতর্কও হয়নি রাজনৈতিক মহলে। এবার সুদীপ অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতেই সেই বিতর্ককে আরও একবার উস্কে দিল। উঠে এল তাপস রায়ের দলত্যাগ প্রসঙ্গ। ২০২৪ সালে তৃণমূল ছাড়েন তাপস রায়। সেইসময় অভিযোগ উঠেছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাপস। আবারও একবার সেই অভিযোগ উঠে এল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে।