এতো বছরের দল ছাড়ার ব্যাখ্যা দিলেন সুদীপ
বাকি সকলের মতো দলের এই ব্যর্থতার জন্য অভিষেককে দায়ী করেন নি, করেছে দলের ব্যর্থতা ও আই-প্যাককে। তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন স্ত্রী নয়না মমতার সঙ্গেই থাকবেন।
তৃণমূলের অন্যতম বর্ষীয়ান সাংসদ তিনি। তবে এবার থেকে তিনি হয়ে যাচ্ছেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া নামে একটি দলের সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত কেন ছাড়লেন তিনি? রবিবার নয়াদিল্লিতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা নতুন দলে মিশে যাওয়ার পর মুখ খুললেন কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিলেন। কী বললেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দলে যোগ দেওয়ার পর সুদীপ বলেছিলেন, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা মমতাকে উপদেষ্টা হিসেবে চেয়েছেন। সেজন্যই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। আর নতুন দলে মিশে যাওয়ার পর তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিয়ে কলকাতা উত্তরের সাংসদ বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, তাঁকে আমার পছন্দের তালিকা থেকে কখনও নামাতে পারব না। ভোটের সময় যাকে মা দুর্গা বলেছি, তাকে এখন মহিষাসুর বলতে পারব না। কিন্তু, একটা দল যারা সিপিএমের ৩৪ বছরের অরাজকতা থেকে রাজ্যকে মুক্ত করেছে। সেই সিপিএম আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তার শিবির বদলানো নিয়ে বললেন, “একসময় লোকসভায় তৃণমূলের ৩৪ জন সাংসদের দলকে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি। সেই দলটা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, সেটা আমি কখনও চাইব না। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস বলছে, রাজ্য থেকে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর কোনও দলকে চটজলদি ঘুরে আসতে দেখা যায়নি। আমার মধ্যে সেই ভয়-ভীতিটা কাজ করছে। আমারও বয়স হচ্ছে। শরীর খারাপ হচ্ছে।” বিধানসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য বেশিরভাগ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করছেন। কিন্তু, সুদীপ বললেন, “আমি মানি না। একজন ব্যক্তি এতবড় একটা রাজনৈতিক দলকে একাই শেষ করে দিতে পারবে, এটা ভাবা ভুল। বড় একটা দায়িত্ব থাকতে পারে। মানুষের মধ্যেও বিক্ষোভ ছিল। মানুষও চেয়েছিল, এবার এই সরকারকে আসতে দেব না।” ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুদীপ। বললেন, “শেষের দিকে তৃণমূলের হয়ে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল আইপ্যাক।”